সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত করতে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হচ্ছে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
1st-4
রাজধানীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : নয়া দিগন্ত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত করতে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দলের এক আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

এ সময় মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি যে, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। কারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আমাদেরকে গণতন্ত্রে যেতে হবে। সেইটা হচ্ছে এ টু জেড ডেমোক্র্যাসি। এই ডেমোক্র্যাসি ছাড়া আমরা মনে করি না, আর কোনো সিস্টেম আছে যে সিস্টেমে জনগণের কল্যাণ করতে পারে। কিন্তুআজকে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে যেন এই প্রক্রিয়া (নির্বাচন) পিছিয়ে যায়, বিলম্বিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু নতুন ‘কুতুব’ আবির্ভূত হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান জানি না। তাদের ভাষা, তাদের বাক্য, তাদের কথা, তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশকে একটা নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তারা দেশকে গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে চায় না। আজকে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বিএনপি একমাত্র দল যে প্রতিবার, প্রতিটি বিপদে-আপদে এসে তারা রুখে দাঁড়িয়েছে, তারা সবসময় রক্ষা করেছে বিপদ থেকে। বিএনপি সেই দল যারা বাংলাদেশকে সব সঙ্কট থেকে উদ্ধার করেছে।

রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনার শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ শুরু এবং এর ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার কথা তুলে ধরেন।

সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা মানব না : মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে এমন এমন সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে যে, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে পর্যন্ত বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে যা আমরা কোনো মতেই মেনে নিতে পারি না। যারা আমাদের দেশকে রক্ষা করে, যারা সঙ্কটের সময়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায় তাদেরকে আমরা কখনই বিতর্কিত হতে দিতে পারি না।

বিপ্লব হঠাৎ করে ঘটেনি : মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ২০২৪ সালে যারা প্রাণ দিয়েছেন শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, সব সময় জানাই। আহত হয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাই। সেই আন্দোলনেও আমাদেরও প্রায় ৮‘শ ছাত্র-যুবক শহীদ হয়েছেন। ১৫ বছর আমরা লড়াই করেছ্,ি আমাদের নেতাকর্মীরা কেউ বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। আমাদের ছেলেরা এখনো মোটরসাইকেল চালায়, হকারি করে। এরপরও আমাদেরকে শুনতে হয় যে, বিএনপি কী করেছে? বিএনপিই তো আন্দোলন শুরু করেছে, বিএনপিই তো এত ত্যাগ স্বীকার করেছে, বিএনপি তো ভিত্তি তৈরি করেছে। আজকে হঠাৎ করে বিপ্লব ঘটেনি। বিপ্লবের ভিত্তি তৈরি করতে হয়েছে, এই ভিত্তি তৈরি করেছে বিএনপি।

খারাপ কাজ করা যাবে না : বিএনপি মহাসচিব বলেন, এমন কথা যেন আমাদেরকে না শুনতে হয় যে, বিএনপি খারাপ কাজ করছে। তাহলে যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে সেই সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়ে যাবে। এখানে (আলোচনা সভা) ঢাকার নেতারা, ঢাকার বিভিন্ন শ্রেণীর নেতারা আছেন আপনারা সবাইকে নিয়ে এ বিষয়গুলো সবসময় খেয়াল করবেন। আর মনে রাখবেন, আপনাদের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ, আপনাদের ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে বৈষ্যমবিরোধী বাংলাদেশ।

ওরা কী করবে আমরা ভালো বুঝি : মির্জা ফখরুল বলেন, যারা এক শ’ গাড়ি নিয়ে ইলেকশন ক্যাম্পিং করতে যায় তারা কী করবে সেটা আমরা ভালো বুঝি। বিএনপি জনগণের সাথে আছে, অতীতে ছিল, থাকবে এবং বিএনপি অবশ্যই জয়যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের নেতা তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন যে, জনগণ যাতে বিএনপিকে ভালোবাসে, বিএনপির কাছে আসে সেই কাজগুলো আমরা করি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অতি দ্রুত যদি নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা করা হয় তাহলে জনগণ নির্বাচনমুখী হয়ে যাবে এবং নির্বাচনমুখী জনগণের সামনে যেকোনো রকমের ষড়যন্ত্র টিকতে পারবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জনগণই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে।

আমাদের গণতন্ত্র আবার বাধার মুখে পড়তে যাচ্ছে : স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্বৈরাচার পতনের পরে যেখানে গণতন্ত্র উত্তরণের কথা ছিল যে জন্য দীর্ঘ ১৬ বছর আন্দোলন হয়েছে এই উত্তরণে কোনো বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণ ছিল না। কারণ এখানে সব জাতি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করে তাকে বিতাড়িত করেছি, যেখানে জনগণের বিজয়ের পরে আবার আমাদের গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান ও নুরুল ইসলাম মনি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক মামুন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু বক্তব্য রাখেন।