রংপুরের ডাবল শিরোপা
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
পয়েন্ট তালিকা
বিভাগ ম্যাচ জয় হার ড্র পয়েন্ট পজিশন
রংপুর ৭ ৩ ১ ৩ ৩১ চ্যাম্পিয়ন
সিলেট ৭ ২ ০ ৫ ২৮ রানার্স আপ
ময়মনসিংহ ৭ ২ ১ ৪ ২৪ তৃতীয়
খুলনা ৭ ২ ২ ৩ ২২ চতুর্থ
বরিশাল ৭ ২ ৩ ২ ২০ পঞ্চম
চট্টগ্রাম ৭ ২ ৪ ১ ১৯ ষষ্ঠ
ঢাকা ৭ ১ ১ ৫ ১৯ সপ্তম
রাজশাহী ৭ ২ ৪ ১ ১৮ অস্টম
সেরা পাঁচ ব্যাটার
নাম বিভাগ ইনিংস রান
সৌম্য সরকার খুলনা ১৪ ৬৩৩
জাকির হাসান সিলেট ১৩ ৬২৮
মার্শাল আইয়ুব ঢাকা ১২ ৬২৫
প্রিতম কুমার রাজশাহী ১৪ ৫৭৪
নাঈম শেখ ময়মনসিংহ ১২ ৫৪৭
সেরা পাঁচ বোলার
নাম বিভাগ ইনিংস উই,
তানভির ইসলাম বরিশাল ১৩ ৩৪
মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ রংপুর ৮ ২৯
নাঈম হাসান চট্টগ্রাম ১৩ ২৭
রুয়েল মিয়া বরিশাল ১২ ২৭
আবু জায়েদ রাহী সিলেট ১০ ২৫
আগের দিনই কাজটা সেরে রেখেছিল রংপুর বিভাগ। নজর ছিল সিলেট-বরিশাল ম্যাচের দিকে। সে ম্যাচে বরিশালের কাছে সিলেট পরাজিত হওয়ায় জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম আসরের শিরোপা জিতে নিল উত্তরবঙ্গের দলটি। তিন বছর পর অধিনায়ক আকবরের হাত ধরে শিরোপা পুন:রুদ্ধার করল রংপুর। এনসিএলে প্রথমবার ২০১৪-১৫ মৌসুমে শিরোপা জেতে রংপুর। তাদের দ্বিতীয় শিরোপা অর্ধযুগ পর ২০২২-২৩ মৌসুমে। এবার অবশ্য এক মৌসুম বাদেই তৃতীয় শিরোপা জিতল দলটি। গত অক্টোবরে এনসিএল টি-২০ শিরোপাও জিতেছিল দলটি। সে হিসেবে একই বছর ডাবল শিরোপা ঘরে তুলল রংপুর।
ষষ্ঠ রাউন্ডে চট্টগ্রামের কাছে হেরে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল রংপুর। শিরোপা জেতার জন্য তাই শেষ রাউন্ডে খুলনাকে হারানোর বিকল্প ছিল না। এমন সমীকরণে শুরুটা ভালো হয়নি আকবর বাহিনীর। তবে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে রূপসা পাড়ের দলটিকে ৭ উইকেট হারায় তারা। তাতে শিরোপার সমীকরণ কঠিন হয়ে যায় সিলেটের জন্য। শেষ রাউন্ডে বরিশালের বিপক্ষে জিততেই হতো সিলেটকে। কিন্তু সে সমীকরণ মেলাতে পারেনি জাকির হাসানের দল। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে দুই দলের লড়াই ড্র হওয়ায় রানার্সআপে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সিলেটকে।
এ দিকে সিলেট জানতো, শেষ দিনে তাদের একমাত্র লক্ষ্য জয়। তবেই রংপুরের ৩১ পয়েন্ট ছাড়িয়ে শিরোপা ধরে রাখা সম্ভব ছিল। তবে ৩২০ রানের কঠিন টার্গেট তাড়া করতে নেমে সিলেট থেমে যায় ১৮৭/৫ রানে, ফলে ম্যাচ ড্র এবং শিরোপা চলে যায় রংপুরের হাতে।
এর আগে ৪ উইকেটে ২১২ রান থেকে দিন শুরু করে বরিশাল বিভাগ দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ২৯৪/৮ রানে। ওপেনার ইফতেখার হোসেন ইফতি খেলেন ১৯৭ বলে অপরাজিত ১২৮ রানের ইনিংস। ১১ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফার্স্ট ক্লাস সেঞ্চুরি, যা সিলেটের সামনে শেষ দিনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।
২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে থেকে শেষ রাাউন্ডে মাঠে নামে নবাগত ময়মনসিংহ। শিরোপা জেতার ভালো সম্ভাবনা ছিল তাদের। কিন্তু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াই করতে পারেনি তারা। ১৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে ময়মনসিংহ। ৪২৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৮১ রানে থামে তাদের ইনিংস। ১৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন আবু হায়দার রনি। দল হারায় বৃথা গেল তার সেঞ্চুরি। আরো একবার বল হাতে জাদু দেখালেন সানজামুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৮ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট নেন এই বাঁ হাতি স্পিনার।
৮ ইনিংসে ২৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরা মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ।
পুরো লিগে সর্বোচ্চ লড়াই সত্ত্বেও ময়মনসিংহ শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থানেই থামল। বাকি দলগুলোর মধ্যে খুলনা চতুর্থ, বরিশাল পঞ্চম, চট্টগ্রাম ষষ্ঠ, ঢাকা সপ্তম এবং রাজশাহী সর্বনিম্ন অবস্থানে আসর শেষ করেছে।