দেশে নতুন করে সন্ত্রাস কায়েম করতে দেয়া হবে না : ডা: শফিক
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান গতকাল গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে গণমাধ্যমের কাছে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। যেসব কাপুরুষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাই। তিনি আরো বলেন, দেশে কেউ যদি নতুন করে ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাস কায়েম করতে চায়, তাদেরকে সে সুযোগ দেয়া হবে না। তারা দ্রুতই জবাব পেয়ে যাবেন ইনশা আল্লাহ। জনগণ সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। এ জাতি কোনো গুলিকে পরোয়া করবে না। বাংলাদেশের মাটি কারো বাপ-দাদার জমিদারি নয়। এটি ১৮ কোটি মানুষের সম্পত্তি। এ সম্পদ পাহারা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা সে পাহারিদারি করব ইনশা আল্লাহ।
তিনি বলেন, দোষীদের গ্রেফতারে সরকারের কোনো ঢিলেমি বরদাশত করা হবে না। সরকার এ ব্যাপারে তৎপর থেকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে আমরা সেটি দেখতে চাই। এ সময় তিনি ওসমান হাদির সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন সবাই মিলে দোয়া করি, সে যেন আবার আমাদের মাঝে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে মুক্তির লড়াইয়ে আবারো রাজপথে আমাদের সাথে শরিক হতে পারে।
এ সময় জামায়াত আমিরের সাথে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, নায়েবে আমির ও ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী এনায়েত উল্লাহ খান, ঢাকা-১৭ আসনের পদপ্রার্থী ডা: খালিদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এক ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, সমাজের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করা নির্বাচন কমিশনের প্রধানতম দায়িত্ব। যদি এ কাজে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শিত হয়, তা হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের বুলি একেবারেই ফাঁকা বলে প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন, জনগণের জীবন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে জনগণ তাদের পাশে দাঁড়াবে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা জানতে পেরে আরেক ফেসবুক পোস্টে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা মতভিন্নতার কারণে এ ধরনের সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এ ঘটনার দ্রুত, নিরক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছি এবং দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা তাকে পূর্ণ সুস্থতা দান করুন।
গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জামায়াতের : ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন অন্যতম জুলাইযোদ্ধা ও এমপি প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি ভীতি সৃষ্টির সুস্পষ্ট অপচেষ্টা বলেই প্রতীয়মান হয়।
তিনি আরো বলেন, আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি- হামলাকারীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে হবে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ জরুরিভাবে পর্যালোচনা করতে হবে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তায় কার্যকরব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। হামলাটি পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির নির্বাচন বানচালের কোনো সুপরিকল্পিত চক্রান্ত কি না- সরকারকে তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ওসমান হাদি গত ১৩ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে জানান, ৩০টি বিদেশী নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে এবং তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেয়া হয়েছে। দেশবাসীর কাছে এটি পরিষ্কার যে প্রশাসন তার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে গুরুতর অবহেলার শামিল। আমরা প্রশাসনের এ দায় এড়ানোর নিন্দা জানাই।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের বর্বর হামলা দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করে। আমরা আশা করি সরকার ও প্রশাসন ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করবে। পাশাপাশি আমি শরিফ ওসমান হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং তার পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।
ওসমান হাদিকে গুলি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল : ওসমান হাদিকে গুলি করার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বায়তুল মোকাররমের সামনে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল সমাবেশে বক্তৃতায় সন্ত্রাসীদের দমনে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান ও শামসুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আবদুস সালাম, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, কামরুল আহসান হাসান, পল্টন থানা আমির শাহীন আহমেদ খান, শাজাহানপুর থানা আমির মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
কোনো ধর্মকে কটাক্ষ না করার আহ্বান : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে চলেছে। এটি খুবই স্বাভাবিক যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও বিশ্বাসের মানুষ রয়েছেন। আমাদের প্রচলিত সংবিধান সবার বিশ্বাসকে সম্মান করে। কারোরই উচিত হবে না কোনো ধর্মকে কটাক্ষ করে কোনো বক্তব্য, বিবৃতি ও প্রচারণা চালানো। তাতে সামাজিক শান্তি ও সৌহার্দ্য বিঘিœত হবে। এটি একটি দেশ ও জাতির জন্য কখনো কল্যাণকর হতে পারে না। এসব বিষয় খেয়াল রেখে সবাইকে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাই।