বর্ষায় চুয়াডাঙ্গায় বেড়েছে ‘বিত্তি’র কদর, ব্যস্ত কারিগররা

Printed Edition
bangla-3
বাজারে বিক্রি করতে আনা মাছ ধরার বিত্তি : নয়া দিগন্ত

এফ এ আলমগীর চুয়াডাঙ্গা

টানা বর্ষণে চুয়াডাঙ্গার নদ-নদী, খাল-বিল ও নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে উঠেছে। নতুন পানিতে দেখা মিলছে পুঁটি, চিংড়ি, টেংরা, শিং, বাইনসহ নানা জাতীয় ছোট মাছ। আর এসব মাছ ধরতে গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার ফাঁদ ‘বিত্তি’র চাহিদা। বর্ষার মৌসুমকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাঁশ দিয়ে বিত্তি তৈরির কারিগররা।

জেলা মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় প্রায় ২০০ পরিবার বংশপরম্পরায় বিত্তি তৈরির সাথে জড়িত। বর্ষার শুরুতেই এসব পরিবারের নারী-পুরুষ বাঁশ চেরা, কাঠি তৈরি ও বিত্তি বুননের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে খাল-বিল ও মাঠে পানি থাকায় বিত্তির চাহিদা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি বলে জানান তারা।

কারিগররা জানান, বিত্তি তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ, তালের আঁশ ও নাইলনের সুতা। প্রথমে বাঁশ চিরে চিকন কাঠি তৈরি করা হয়। পরে তালের আঁশ থেকে তৈরি সুতা দিয়ে বুনে বুনে তৈরি করা হয় মাছ ধরার বিত্তি। একটি ভালো মানের বাঁশ থেকে আকার অনুযায়ী চার থেকে ছয়টি বিত্তি তৈরি করা যায়। বাজারে আকার ও মানভেদে প্রতিটি বিত্তি বিক্রি হয় ৪৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায়।

দর্শনা পৌরসভার রামনগর কালিদাসপাড়ার তৈরি বিত্তির চাহিদা বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় কারিগররা বলেন, বর্ষার এই কয়েকটি মাসই বিত্তি থেকে তাদের মূল আয় হয়। বছরের অন্য সময় এ কাজের চাহিদা কম থাকায় অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিনে তাদের। সরকারি বা বেসরকারিভাবে কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি এবং সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা পেলে এ শিল্প আরো এগিয়ে নেয়া সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

সম্প্রতি দামুড়হুদার ডুগডুগি পশুহাট ও জীবননগরের শিয়ালমারি পশুহাটে গিয়ে দেখা যায়, বিত্তি কিনতে বিভিন্ন এলাকার মানুষের ভিড়। পাইকারি ও খুচরা- দুইভাবেই চলছে বেচাকেনা।

শিয়ালমারি হাটের বিত্তি ব্যবসায়ী নাসের আলী বলেন, দাদার আমল থেকে আমরা এ ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে চাহিদা বেশি থাকায় এবার আরো অনেকেই নতুন করে বিত্তি বিক্রির কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

হাটে আসা ক্রেতা ফারুক হোসেন ও আনিসুর রহমান বলেন, বর্ষায় মাঠের কাজ কমে গেলে অনেকেই বাড়তি আয়ের আশায় মাছ ধরেন। পানিতে মাছের পরিমাণ বেশি থাকায় বিত্তিতে বেশ ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: ফরহাদুর রেজা বলেন, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছের বিচরণ বেড়েছে। দেশীয় ছোট মাছ ধরার ক্ষেত্রে বিত্তি কার্যকর একটি উপকরণ। স্থানীয়ভাবে তৈরি মাছ ধরার এই ফাঁদ এক দিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, অন্য দিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে।