এজেন্সির প্রতারণায় রুশ যুদ্ধে ৩০ বাংলাদেশী
Printed Edition
- প্রতারিত কর্মীদের উদ্ধারে কূটনৈতিক তৎপরতা, নিহত-আহতের তথ্য অজানা
- ‘স্পেশাল সার্ভিস ভিসা’ নিয়ে রাশিয়ায় না যেতে সতর্কবার্তা দূতাবাসের
রাশিয়ায় বৈধভাবে কর্মী হিসেবে গিয়ে এজেন্সির প্রতারণায় ৩০ বাংলাদেশী বর্তমানে ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সামরিক অভিযানে রয়েছেন। তাদের মধ্যে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে তথ্য নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে তাদের জীবিত উদ্ধার বা দেশে ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার সাথে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
রাশিয়া বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচিত হলেও প্রতারণার মাধ্যমে কর্মীদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর ঘটনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই ৩০ বাংলাদেশীকে উদ্ধারে শুরু থেকেই রুশ কর্তৃপক্ষের সাথে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম এক লিখিত বক্তব্যে নয়া দিগন্তকে বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে ৩০ বাংলাদেশীর মধ্যে কারো মৃত্যুর তথ্য দূতাবাসকে জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, কয়েকজন বাংলাদেশী ইউক্রেনের হাতে বন্দী থাকতে পারেন। তাদের জীবিত বা আহতাবস্থায় শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার রেডক্রসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, আহতদের মধ্যে একজনের সাথে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর একটি সামরিক হাসপাতালে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়েছে। তবে মস্কো থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার দূরের আরেকটি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি অন্য এক বাংলাদেশীর সাথে দেখা করার অনুমতি রুশ সামরিক কর্তৃপক্ষ দেয়নি।
তিনি বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্র এবং দেশটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। বিভিন্ন খাতে বৈধভাবে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। তাই কোনো অনিয়ম বা প্রতারণা যেন এই শ্রমবাজারের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি দূতাবাসের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ওই ৩০ জনকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে। ইতোমধ্যেই সরকার সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনা জানার পরপরই বাংলাদেশ দূতাবাস রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কর্মীদের উদ্ধারের দাবি জানায়। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সরকারি সফরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং বাংলাদেশীদের দ্রুত প্রত্যাবর্তন ও কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
তবে আলোচনায় রুশ কর্তৃপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশীরা প্রয়োজনীয় নথিপত্রে স্বাক্ষর করে সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে হলেও তাদের কাছ থেকে এসব নথিতে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে এবং প্রত্যেককে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ছয় লাখ টাকা সমপরিমাণ অর্থও দেয়া হয়েছিল। এর পরও তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।
এ দিকে রাশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন ধরনের প্রতারণার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সম্প্রতি অনেকেই ‘স্পেশাল সার্ভিস ভিসা’ নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এসব ভিসা বাংলাদেশ দূতাবাস যাচাই বা অনুমোদন করে না। তাই এমন ভিসায় বিদেশে না যাওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন।
অন্য দিকে জনশক্তি রফতানিকারক কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর দফতরে জনশক্তির চাহিদাপত্র যাচাইয়ে আগের থেকে বেশি সময় লাগছে। এতে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।