বিএনপি দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে : খেলাফত মজলিস

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি সরকার একের পর এক জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রৈ-মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

নির্বাহী সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি সরকার গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচার বিভাগ সংস্কার সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করেছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট বা আকাক্সক্ষাকে ভূলুণ্ঠিত করার শামিল।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ একটি দলিল। এই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৫টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপির নাম থাকলেও এখন তারা ভিন্নমত যুক্ত করে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংসদীয় সংশোধন চায়। এটি মূলত গণভোটে দেয়া জনরায়ের বিরোধিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ তারা দাবি করেন, গণভোটের যে ৪৮টি প্রস্তাবের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে, নির্বাচিত সংসদকে সেগুলো নিয়েই আলোচনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে খেলাফত মজলিস জানায়, বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে ভয়াবহ অরাজকতা বিরাজ করছে। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ ও সরঞ্জামের অভাবে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে হামের প্রাদুর্ভাবে অনেক শিশুর মৃত্যু এবং মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালু করার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণামদর্শী’ আখ্যা দিয়ে নেতারা বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক ও নৈতিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কট মোকাবিলায় তারা অনলাইন ক্লাসের পরিবর্তে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার ও আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করার এবং পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ দেন।

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে অনুষ্ঠিত গত সপ্তাহের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনেছে সংগঠনটি। এসব অনিয়মের জন্য তারা নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করার দাবি জানান।

বৈঠকে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এ বি এম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সলসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি খেলাফত মজলিসের

সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জনগণের এই রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব করা হলে বা উপেক্ষা করা হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই রায় উপেক্ষা করে সংবিধানের সীমিত সংশোধনের পথে হাঁটছে, যা জনগণের সাথে স্পষ্ট প্রতারণা।’ তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, গণরায় উপেক্ষা করে অতীতে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারেনি। যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ভার বহন করতে হবে।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে গণভোটের বাধ্যবাধকতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের পথ সুগম করবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনীর সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা প্রমুখ।

, মাওলানা আবুল হাসান জালালী ও বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য গাজি রহমতুল্লাহ, মাওলানা আবুল কাশেম মিয়াজী, মাওলানা আবু হানিফ নোমান, এইচ এম খোকন, ছাত্র মজলিসের সভাপতি আব্দুল আজিজ এবং যুব মজলিস নেতা মাওলানা জাকির হোসাইন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি আজ বাদ জুমা ও আসর চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহ মহানগর ও জেলাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, ফেনী এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।