সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের সংবাদে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রোববার এক যুক্তবিবৃতিতে ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, শত শত বছর ধরে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি মুসলমানগণ হানাফী মাজহাব এর ফিকাহ এবং আত্মশুদ্ধির জন্য তাসাওউফের চর্চা করেন। সালাফী মতাদর্শীরা সরাসরি এর বিরুদ্ধাচরণ করে। শামীম কায়সার লিংকন বিশেষ মতাদর্শী ও সালাফী লা-মাজহাব অনুসারী।

বাংলাদেশ যেমনিভাবে সকল ধর্মবিশ্বাসীদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দেশ হিসেবে পরিচিত, একইসাথে ধর্মীয়ভাবেও ভিন্ন ভিন্ন ঘরানা ও মতপথের অনুসারীদের মাঝে হিংসা বিদ্বেষ দৃশ্যমান নয়। কিন্তু কয়েকবছর ধরে লা-মাজহাব এবং সালাফি মতবাদ প্রতিষ্ঠার উদগ্র বাসনায় বিশেষ গোষ্ঠী দেশের শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশকে বিনষ্ট করার অদূরদর্শী তৎপরতায় মহল্লায় মহল্লায়, মসজিদে মসজিদে বিশৃঙ্খলা ও বিভেদৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় নিছক আর দশটি মন্ত্রণালয়ের মতো নয়। এর সঙ্গে দেশের মসজিদ, মাদরাসা, ওয়াকফ, হজ ব্যবস্থাপনা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মুসলিম জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। তাই এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনে ব্যক্তির ধর্মীয় অবস্থান, চিন্তাধারা ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিৎ। একই বিষয়ে জনগণের আপত্তি উপেক্ষা করে সরকার যদি আবারও একই পথে অগ্রসর হয়, তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে—আমাদের সঙ্গে কী তামাশা করা হচ্ছে? আমরা সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই—শামীম কায়সার লিংকনকেই কেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মনোভাব ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।

বিবৃতিতে ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ করব- প্রয়োজনে কোনো ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ কাউকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হোক। নতুবা বিএনপির ভেতরেও নিশ্চয়ই ধর্মীয় মনোভাব সম্পন্ন সংসদ সদস্য রয়েছেন, প্রয়োজনে তাদের কাউকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করা হোক। কিন্তু যিনি প্রকাশ্যে হানাফী মাজহাবের বিরোধী, তাকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করা হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাবে এবং সরকারের ব্যাপারে বিরূপ মনোভাব তৈরি হতে পারে।

বর্তমান সরকার গঠনে কওমি অঙ্গন, হেফাজতে ইসলাম ও সমর্থিত ইসলামী দলগুলোর অনস্বীকার্য সত্ত্বেও মন্ত্রীসভায় কওমি অঙ্গনের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নেই। এটি ইতোমধ্যে বিরোধী পক্ষ ও আলেম সমাজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।

বর্তমান সফল মন্ত্রীকে সরিয়ে বা তার পাশাপাশি ভিন্ন মতাদর্শের লোক আনা হলে সারা দেশের কওমি ওলামা-মাশায়েখ, হেফাজতের শতভাগ নেতাকর্মী এবং সাধারণ মুসলমান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তায় একটি ধাক্কা লাগবে।

সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমাদের আহ্বান—দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতির মূল্যায়ন করুন। বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্তের কারণে মূলধারার ইসলামি অঙ্গনের সাথে সরকারের দূরত্ব তৈরি হোক, তা কখনোই কাম্য নয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন

মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক কাসেমী (বলিয়ারপুর মাদরাসা, ঢাকা)

মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী (প্রিন্সিপাল, জামেয়াতুল মানহাল, উত্তরা)

মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী (নরসিংদী)

মাওলানা আব্দুর রহীম আল মাদানী (টঙ্গী গাজীপুর)

মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী (বিবাড়িয়া)

মুফতী সালমান ফারসী (ঢাকা)

মাওলানা ইসমাঈল বুখারী কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ)

মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ (মধুপুর মুন্সীগঞ্জ)

মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কাসেমী (প্রিন্সিপাল, ইসলামিয়া হালিমিয়া, মুন্সীগঞ্জ)

মুফতী রিজওয়ান রফিকী (যশোর)

মুফতী শফী কাসেমী (বগুড়া)

মুফতী আরিফ জাব্বার কাসেমী (গাজীপুর)

মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক কাসেমী (ঢাকা)

মুফতী বেলাল বিন আলী (ঢাকা)

মুফতী আব্দুল্লাহ সালেহী (ঢাকা)

মাওলানা মাহমুদুল হাসান (যশোরী)

মাওলানা মাহমুদুল হাসান কাসেমী (বিবাড়িয়া)

মাওলানা দিলাওয়ার হুসাইন মাইজী (কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা)

মুফতি হোসাইন আহমদ রাহমানি (হবিগঞ্জ)

মুফতি রেজাউল করিম (রূপসা খুলনা)

মুফতি মুহাম্মদ শোয়াইব কাসেমী (মিরপুর, ঢাকা)

মুফতি রহমতে এলাহী আরমান কাসেমী (ঢাকা)

মুফতি হোসাইন বিন ওয়াক্কাস কাসেমী (যশোর)

মাওলানা ওবায়দুর রহমান হুজাইফী (ঢাকা)

মুফতি আমিনুল ইসলাম কাসেমী (সাভার)

মুফতি ফেরদৌস মাহমুদ (জামালপুর)

মুফতি কামরুজ্জামান কাসেমী (যশোর)

মুফতি সোহাইল আহমদ (নীলফামারী)

মুফতি আব্দুল হালিম বিন হারুন (নরসিংদী)

মুফতি মাহমুদুল হাসান জিলানী (কুমিল্লা)

মুফতি সোলায়মান মাদানী (কুমিল্লা)

শাইখুল হাদিস মুফতি শফিকুর রহমান (ময়মনসিংহ)

মুফতি এহতেশাম কাসেমী (সিলেট)

মুফতি ফরহাদ আহমদ (সিলেট)

মুফতি শফিকুল ইসলাম কাসেমী (ঢাকা)

মাওলানা আল আমিন (ঢাকা)

মাওলানা আব্দুল্লাহ আনসারী (ঢাকা)

মাওলানা মাহমুদুল হাসান নোমান (ঢাকা)

মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আজাদী (ঢাকা)

মুফতী ইউসুফ আজাদী (ঢাকা)

মুফতী ওবায়দুল্লাহ শাকির (ফরিদপুর)

মুফতী হাফিজুর রহমান (মেহেরপুরী)

মুফতী ইনামুল হক আইয়্যুবী (বিবাড়িয়া)

মাওলানা মাসউদুর রহমান আইয়্যুবী (মানিকগঞ্জ)

মাওলানা গাজী সিদ্দিকুর রহমান (সাভার, ঢাকা)

মুফতি আবু সাঈদ ইসহাকী (মাদারীপুর)

মুফতি ইসহাক কামাল (নরসিংদী)

মুফতি তাফহীমুল হক (হবিগঞ্জী)

মুফতি নোমান আল হাবীব (মাদারীপুর)

মুফতি জাকারিয়া সিদ্দিকী (ঢাকা)। বিজ্ঞপ্তি।