যিনি তোমাদের জন্য লিখেন : সাঈদ বারী

হাসান হাফিজ এমন একজন লেখক, যিনি অনেক দরদ দিয়ে তোমাদের জন্য লেখেন। তোমাদের হাসি, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎকে একটু সুন্দর করার জন্যই তিনি কলম হাতে নেন। তোমরাও বই পড়বে, নতুন গল্প জানবে এবং একদিন হয়তো তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ হয়ে উঠবে হাসান হাফিজের মতো আরেকজন প্রিয় শ

Printed Edition
agdum2
যিনি তোমাদের জন্য লিখেন : সাঈদ বারী

হাসান হাফিজ পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি বর্তমানে দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকার সম্পাদক এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি। বড়দের জগতে তিনি পরিচিত একজন কবি ও সাংবাদিক হিসাবে। কিন্তু তোমরা কি জানো, তিনি অনেক দিন ধরেই ছোটদের জন্যও লিখে চলেছেন।

হাসান হাফিজ বিশ্বাস করেন, শিশুদের জন্য লেখা খুব বড় দায়িত্বের কাজ। কারণ তোমাদের মন কচি, কল্পনায় উড়তে চায় আকাশে। তাই তিনি এমন গল্প ও কবিতা লেখেন, যা পড়ে তোমাদের ভালো লাগে, আনন্দ পাও, আবার নতুন কিছু ভাবতেও ইচ্ছে করে। তার বইগুলোর পাতায় থাকে পাখি, নদী, রঙধনু, বন্ধু আর স্বপ্নের নানা গল্প। কখনো থাকে দুষ্টু মজার কাহিনী, কখনো থাকে সাহসী হওয়ার শিক্ষা।

ছোটবেলায় তিনি নিজেও বই পড়তে খুব ভালোবাসতেন। বই ছিল তার সেরা বন্ধু। সেই ভালোবাসা থেকেই বড় হয়ে তিনি ঠিক করেন, তিনি ছোটদের জন্য লিখবেন। যেন তোমরা বইয়ের ভেতর দিয়ে নতুন এক জগৎ দেখতে পারো। সেই জগতে থাকবে হাসি-আনন্দ, কৌতূহল আর সুন্দর মানুষ হওয়ার স্বপ্ন।

তিনি শুধু লিখেন না, শিশুদের কথা মন দিয়ে ভাবেনও। তিনি চান তোমরা ভালো মানুষ হও, সত্য কথা বলো, প্রকৃতিকে ভালোবাসো এবং অন্যকে সাহায্য করো। তার লেখায় তাই সব সময় থাকে মমতা আর মানবিকতার আলো। সহজ ভাষায় লেখা তার গল্প ও কবিতা পড়লে মনে হয়, যেন খুব কাছের একজন আপন মানুষ তোমাদের সাথে কথা বলছে।

মৌলিক ও সম্পাদনা মিলিয়ে প্রায় ২০০ বই প্রকাশিত হয়েছে তার। তোমাদের জন্য লিখেছেন অসংখ্য বই। কিছু বইয়ের নাম এখানে দিচ্ছি : সোনালি সব রূপকথা, নানান দেশের রূপকথা, বনের রাজা আসলে কে, শ্রেষ্ঠ বিদেশী রূপকথা, মজার যত প্রাণী, ইষ্টি-কুটুম মিষ্টি নয়, নির্বাচিত ১০০ ছড়া, জাপানের রূপকথা, রাশিয়ার ছয়টি রূপকথা, বীরবলের গল্প, আট দেশের রূপকথা, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভূতের গল্প, ইচ্ছেকুঁড়ি, স্বপ্নকুঁড়ি, আফ্রিকার রূপকথা, দশ দেশের রূপকথা, বিশ্বসেরা ১২ বিজ্ঞানী, মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প- ইত্যাদি।

শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর (২০২৬) তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার। এছাড়া শিশুসাহিত্যে ফয়েজ আহমদ পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার ও এম নূরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। এসব সম্মান তার অনেক দিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরন্তর লিখে গেছেন তোমাদের জন্য। তাই এই পুরস্কার পেয়ে তিনি যেমন খুশি, তেমনি খুশি হয়েছেন তোমাদের ভালোবাসা পাওয়া একজন লেখক হিসেবে।

তোমরা যখন তার লেখা পড়বে, তখন শুধু গল্প পড়বে না; বরং শিখবে সুন্দর করে ভাবতে, স্বপ্ন দেখতে এবং ভালো মানুষ হতে। একজন লেখকের সবচেয়ে বড় আনন্দ তখনই হয়, যখন শিশুরা তার বই হাতে নেয় আর মন দিয়ে পড়ে।

কবি, শিশুসাহিত্যিক হাসান হাফিজের একটি বইয়ের পরিচিতি থেকে কিছু অংশ তোমাদের জন্য তুলে ধরছি- ‘শিশু-কিশোর মনের আগ্রহ ও কৌতূহল ঘনীভূত হয় এসব কল্পকথার মায়াবি বর্ণচ্ছটায়। গল্পের জমাট বুনন, রহস্য, পরিণতি, কাহিনীর নাটকীয়তা পাঠককে আবিষ্ট করে রাখে। এক একটি গল্প এক এক রকম বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল।’

তাই বলা যায়, হাসান হাফিজ এমন একজন লেখক, যিনি অনেক দরদ দিয়ে তোমাদের জন্য লেখেন। তোমাদের হাসি, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎকে একটু সুন্দর করার জন্যই তিনি কলম হাতে নেন। তোমরাও বই পড়বে, নতুন গল্প জানবে এবং একদিন হয়তো তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ হয়ে উঠবে হাসান হাফিজের মতো আরেকজন প্রিয় শিশুসাহিত্যিক।