মদনের হাওরে চলছে অপরিকল্পিত মাটি কাটার উৎসব

Printed Edition
bangla-6
মদনের হাওরে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মৌখিক অনুমতির অজুহাতে হাওরাঞ্চলে দিন-রাত চলছে বাণিজ্যিকভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার মহাউৎসব। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা, অন্যদিকে চরম ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।

সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, হাওরের ফসলি জমির দুই থেকে তিন ফুট গভীর টপ সয়েল কেটে ট্রলি ও ড্রাম ট্রাকে করে বিক্রি করা হচ্ছে মদন পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায়। মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে অনুমোদনবিহীন শত শত ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক গ্রামীণ সড়কে অবাধে চলাচল করছে। ফলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, রাস্তায় পড়ে থাকা মাটির কারণে ধুলোয় ঢেকে থাকছে পুরো এলাকা। এতে বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। বৃষ্টির সময় সড়ক পিচ্ছিল হয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল ইসলাম হিরো বলেন, মাটি ব্যবসায়ীরা নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে অল্প দামে জমির মালিকদের কাছ থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে নিচ্ছেন। পরে সেই মাটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও তা কার্যকর হচ্ছে না। অপরিকল্পিত মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

মাটি ব্যবসায়ী সাইকুল মিয়া দাবি করেন, মানুষের প্রয়োজনেই তারা মাটি কাটছেন। মৌখিক অনুমতির পরিবর্তে লিখিত অনুমতি দিলে হয়রানি কমবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জমির মালিক আজহারুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিজের জমি থেকেই তারা মাটি কাটছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ফেললে জমির মারাত্মক ক্ষতি হয়। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগে। তিনি বলেন, কৃষকদের টপ সয়েল না কাটতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ভেকু দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।