শিশু হিসানকে পাচারের উদ্দেশ্যেই অপহরণ করা হয় : র্যাব
অপহরণ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল থেকে ফেরার পথে মায়ের কাছে পানি পান করতে চাওয়ায় কাল হয়ে দাঁড়ায় শিশু হিসান রহমানের। সন্তানকে রিকশায় রেখে পানি আনতে গেলে চালক কৌশলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণের কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে ধারণা করছে, শিশু হিসানকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করার উদ্দেশ্যেই অপহরণের পর গাইবান্ধায় নেয়া হয়েছে।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেট গ্র্যান্ড প্লাজা থেকে অপহরণকারী চাঁন মিয়া এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ি বাস স্ট্যান্ড থেকে আসামির বাবা নূর মোহাম্মদ, মা চাঁন মালা ও স্ত্রী কুলসুম বেগমকে গ্রেফতার করে র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা, র্যাব-৩ ও ১৩।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, ডাক্তার দেখিয়ে অটো রিকশায় ওঠেন ভুক্তভোগী শিশু হিসানের মা সুমাইয়া আক্তার। রিকশায় কিছুদূর যাওয়ার পর হিসান তার মায়ের কাছে পানি পান করতে চাইলে তাকে রিকশায় রেখে পানি আনতে যান তিনি।
এই সুযোগে তিন বছর বয়সী হিসানকে নিয়ে পালিয়ে যান রিকশাচালক চাঁন মিয়া। এরপর রিকশাচালক ওই শিশুকে অপহরণের পর বাবা নূর মোহাম্মদের মাধ্যমে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
র্যাবের মুখপাত্র এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিন বছরের শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই এলাকায় ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া অনেকক্ষণ হন্যে হয়ে খুঁজে না পেয়ে মুগদা থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।
এ ঘটনায় র্যাব ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশু হিসানের মা সুমাইয়া আক্তার রাজধানীর সবুজবাগ দক্ষিণগাঁও এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবৎ বসবাস করে আসছেন।
তার স্বামী গত ১২ বছর ধরে প্রবাসে থাকেন। আর তিন সন্তান নিয়ে তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত ২৮ জানুয়ারি বেলা ১১টার সময় সুমাইয়া ছেলে হিসানকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য মুগদা মেডিক্যালে যান। ডাক্তার দেখানো শেষে তিনি ছেলেকে নিয়ে মৌচাক মার্কেটের উদ্দেশে অটোরিকশায় ওঠে ছিলেন।
র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার চাঁন মিয়া আগেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল। এ ছাড়া তার নামে গাইবান্ধা থানায় নিজের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তিনি কয়েক মাস কারাগারে ছিলেন। জামিনে বের হয়ে ঢাকায় চলে আসে। পরে মুগদা থানায় মাদকসহ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার চার আসামি শিশু হিসানকে অপহরণের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তবে ধারণা করছে, শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করার জন্যই গাইবান্ধায় নেয়া হয়েছে।
কারণ অর্থের লোভ থাকলে শিশুটির পরিবারকে খুঁজে বের করে মুক্তিপণ দাবি করত চাঁন মিয়া।