জট খুলতে আর কত অপেক্ষা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা না খেলার বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। সমাধান করতে গতকাল ঢাকায় আসেন আইসিসির দু’জন কর্মকর্তা। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হয়েছে দুই পক্ষের বৈঠক। আইসিসি প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধিত্ব করেন ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনসের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা এবং ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। গৌরব সাক্সেনার ভিসা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পাওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি এবং তাই ভার্চুয়ালি আলোচনায় যোগ দেন। বিসিবির পক্ষ থেকে সভাপতি মো: আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি মো: শাখাওয়াত হোসেন এবং ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির পরিচালক ও চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। বিসিবি এবং আইসিসি এই বিষয়ে গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যেতে একমত পোষণ করেছে। তবে ফাইনালি কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কেউই।

৪ জানুয়ারি নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। সেই অবস্থান থেকে কোনোভাবেই নড়েনি। সরকার, ক্রিকেট বোর্ড সবাই মনে করছে, খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ, সাংবাদিক বা দর্শকেরা ভারতে নিরাপদ না। আইসিসি প্রতিনিধিদলের সাথে মূলত এটা নিয়েই কথা হয়েছে। আইসিসির এই সফর বিসিবিকে রাজি করানোর শেষ চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ দল ভারতে গেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নিরাপত্তা বিঘেœর আশঙ্কা আছে, বাংলাদেশের জার্সি পরে বের হওয়া দর্শকদেরও বিপদের কারণ হতে পারে, সেখানে আইসিসি কিভাবে বিসিবিকে ভারতে দল পাঠাতে বলে। সেই আলোচনায় ফলপ্রসূ কিছু হয়নি। তবে আইসিসি আবার যোগাযোগ করে একটি মাঝামাঝি পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ চাচ্ছে শ্রীলঙ্কায় খেলতে।

সমস্যা নিরসনে যা হতে পারে

সবচেয়ে সহজ পথ হলো, আইসিসি যদি বিশ্বকাপের গ্রুপিংটা একটু এদিক-সেদিক করে। চার গ্রুপের মধ্যে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে। অন্য চার দল ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। এই গ্রুপের তিনটা খেলা পড়েছে ভারতের কলকাতায় ও একটি মুম্বাইয়ে। যদি ‘সি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশকে ‘বি’ গ্রুপে নেয়া হয় আর ‘বি’ গ্রুপ থেকে আয়ারল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে নিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আয়ারল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে দিলে সব খেলা হবে ভারতে আর বাংলাদেশকে ‘বি’ গ্রুপে দিলে সব খেলা পড়বে শ্রীলঙ্কায়।

ভিন্ন উপায়

আর একটি উপায় হতে পারে ‘বি’ গ্রুপের সব খেলা ভারতে আর ‘সি’ গ্রুপের সব খেলা শ্রীলঙ্কায় নিয়ে গেলে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে দুই গ্রুপের দশ দলকেই নাড়াতে হয়, যেটিতে জটিলতা বাড়বে। কারণ, টুর্নামেন্টের এত অল্প আগে সূচি আর ভেনু বদলাতে হলে আইসিসিকে অন্য বোর্ডগুলোর মতামত নিতে হবে।

পাকিস্তানও যদি না খেলে

বিসিবি বন্ধুপ্রতিম বোর্ডগুলোর সহায়তা চাইতে পারে। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমর্থনে আরো কিছু বোর্ড যদি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় তাহলে বিসিসিআইয়ের ওপর চাপ আরো বাড়বে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিসিবির ‘কাছের বন্ধু’তে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে যদি তারা বলে, ‘বাংলাদেশের দাবি না মানা হলে আমরাও বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করব।’ এমনটা বলতেই পারে কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে পিসিবির নৈতিক সমর্থন পাচ্ছে বিসিবি। আর দুই দেশের না খেলা মানে বিশ্বকাপের বিপণনেই বড় ধস নামবে।