মাদকের আড্ডাস্থলে আধুনিক ক্রীড়াঙ্গন
Printed Edition
মো: আজিজুল হক গাজীপুর মহানগর
দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবী ও চিহ্নিত অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর গর্ত আবর্জনার জায়গাটি এবার আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনে পরিণত হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সেই মাঠেই বিকেলে উদ্বোধন হলো ‘প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫’। উদ্বোধনী খেলায় অংশ নেয় গাসিক অঞ্চল-৪ (গাজীপুর পৌর) ও অঞ্চল-২ (পূবাইল)। খেলায় অঞ্চল-২ অঞ্চল-৪-কে ৪-০ গোলে পরাজিত করে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন ওড়ানো এবং উদ্বোধনী শটের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল হাসান।
এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি গাজীপুর-৬ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, বিএনপির অপর সম্ভাব্য প্রার্থী ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিন, গাজীপুর-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুর রহমান কিরণ, মহানগর এনসিপি নেতা আকাশ ঘোষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
যে মাঠে ছিল অপরাধী আড্ডা- সেটাই আজ উন্নয়নের প্রতীক : টঙ্গীর এই মাঠটি একসময় গভীর গর্তে ভরা এবং ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি ছিল, যেখানে দিন-রাত প্রকাশ্যে চলত মাদকসেবন, কেনাবেচা, অপরাধী উৎপাতে মানুষ চলাচলেও ভরসা পেত না। এলাকাবাসীর ভাষায়- ‘এ জায়গায় পরিবার নিয়ে দাঁড়ানোই যেত না, কিশোরদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছিলাম আমরা।’
তার ঠিক বিপরীতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন মাঠটি ভরাট করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আজ এটিকে পরিণত করেছে একটি প্রাণবন্ত ক্রীড়া কেন্দ্রে। মাঠের পাশেই করপোরেশনের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা হয়েছে একটি স্কুল, যা একসময় কল্পনাও করা যেত না।
মাঠের চার পাশে এখনো রয়েছে টঙ্গীর কুখ্যাত দুই মাদক স্পট- ব্যাংকের মাঠ বস্তি ও কেরানির টেক বস্তি। এ এলাকাটিকে পূর্ববর্তী সরকারের সময় মাদকবাণিজ্যের নিরাপদ আস্তানা বানানো হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কাছেই রয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সাবেক সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি শামসুননাহার এবং মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা রাসেলের চাচা মতিউর রহমান মতির বাড়ি; পাশাপাশি এলাকায় সক্রিয় ছিল আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের বিশেষ প্রভাব।
অতীতের ‘মাদক রাজধানী’কে বদলে দিতে উদ্যোগ : মাদকের অভিশাপ থেকে টঙ্গীকে মুক্ত করতে মাঠভিত্তিক যুব উন্নয়ন ও খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘এ মাঠটি একসময় অপরাধীদের দুর্গ ছিল। যারা বছরের পর বছর টঙ্গীকে মাদকবাণিজ্যের বাজার বানিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে আছে। আমরা চাই এই মাঠ থেকেই টঙ্গীর যুবসমাজ মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, এটিই আমাদের লক্ষ্য।’
সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার গাসিক প্রশাসককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা এই এলাকায় মাদকের হাট বসিয়ে এলাকাটিকে ধ্বংস করে গেছে। অপরাধ আর মাদকের দাপটে বহু বছর অবহেলিত টঙ্গীর এই এলাকা এখন আলোচনায় উন্নয়নের ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে। এই মাঠ টঙ্গীর সামাজিক পরিবর্তন ও যুব বিকাশের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা করি।