ইউক্রেন সেনাদের বিদায়ের পর প্রথমবার কুর্স্কে পুতিন
Printed Edition
রুশ বাহিনী গত মাসে কুর্স্ক থেকে ইউক্রেনের সেনাদের হটিয়ে দেয়ার পর চলতি সপ্তাহে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন পশ্চিমের এ অঞ্চলটি সফর করেছেন। মঙ্গলবার এ সফরের সময় পুতিন অঞ্চলটিতে ক্রিয়াশীল স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোর সাথে দেখা করেন এবং কুর্স্ক-২ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
স্বেচ্ছাসেবক ও ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেক্সান্ডার খিনশতিনসহ স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে পুতিনের সাক্ষাতের দৃশ্য দেখিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। ক্রেমলিন ফার্স্ট ডেপুটি চিফ অব স্টাফ সের্গেই কিরিয়েঙ্কো এ সফরে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গী হয়েছিলেন।
রাশিয়া গত মাসের শেষ দিকে জানায়, তারা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে কুর্স্ক থেকে হটিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রুশ ভূখণ্ডে হওয়া সবচেয়ে বড় সামরিক অনুপ্রবেশের ইতি টেনেছে। ইউক্রেনে বসবাসরত রুশ ভাষাভাষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও প্রতিবেশী দেশ থেকে ‘নব্য নাৎসিদের হটাতে’ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো তাদের ভাষায় ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ নামে।
দু’পক্ষের মধ্যে ওই লড়াই এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে রাশিয়ার দখলে গেছে যুদ্ধপূর্ববর্তী ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা। যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন জোর উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত বলার মতো কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ইউক্রেনের নতুন অঞ্চল কব্জায় নিতে রাশিয়া শিগগিরই নতুন আক্রমণ শুরু করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কাও করছেন।
রুশ ‘সর্বাত্মক অভিযান’ শুরুর আড়াই বছরের মাথায় বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও ভারী পশ্চিমা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আচমকা এক আক্রমণে গত বছরের আগস্টে কুর্স্কের বেশ কিছু অঞ্চল দখলে নিয়ে নিয়েছিল কিয়েভ। একপর্যায়ে তারা রাশিয়ার এ অংশের প্রায় এক হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নেয়ারও দাবি করেছিল। এরপর এই ফ্রন্টে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের যোগ দিতে দেখা যায়। গত বছরের নভেম্বরেই কিয়েভের সেনাদের হাত থেকে অনেক এলাকা পুনর্দখল করে নেয় মস্কো। তাদের পাল্টা আক্রমণে এ বছরের এপ্রিলে এসে এলাকাটি ছাড়তে বাধ্য হয় ইউক্রেনের সেনারা।