জুমাতুল বিদায় মুসল্লিদের ঢল
Printed Edition
জুমাতুল বিদায় গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছিল। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর প্রতিটি পাড়া মহল্লার মসজিদগুলোতে আজানের পর থেকেই মুসল্লিরা দল বেঁধে আসতে থাকেন। সময় বাড়ার সাথে সাথে মুসল্লিদের আগমনও বাড়তে থাকে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ মসজিদের পানে ছুটে যান। বিশেষ করে ২৭ রমজানের কারণে মুসল্লিদের উপস্থিতি আরো বেশি ছিল। এ জন্য বেশির ভাগ মসজিদেই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অনেক স্থানে মসজিদসংলগ্ন সড়কে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ছিল গতকাল। দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দেখা যায় ঢল নেমেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিপূর্ণ হয়ে য়ায় পুরো মসজিদ। খুতবার আগে নফল নামাজ, তসবিহ পাঠ, দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াত করে সময় পার করেন মুসল্লিরা। সরেজমিন দেখা যায়, দুপুর ১২টার আগ থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করছেন। সোয়া ১২টার মধ্যেই মসজিদের প্রধান অংশ পূর্ণ হয়ে যায়। ভেতরে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় পরবর্তীতে মুসল্লিরা বাইরের বারান্দা এবং দোতলা-তিনতলায় অবস্থান নেন। অনেককে বাইরেও নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। মুসল্লিরা বলেন, শুক্রবার এমনিতেই মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এরপর জুমাতুল বিদা বা রোজার শেষ শুক্রবার হিসেবে আজকের দিন আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পল্টন কালভার্ট রোড থেকে আসা মুসল্লি সাইফুল ইসলাম বলেন, আজকের দিনটি সব মুসলমানদের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া জুমাতুল বিদা দিনটিকে আরো গুরুত্ববহ করেছে। গত রাতে ২৭ রমজানের শবেকদরের ফজিলত পেতে মানুষ সারারাত ইবাদত করেছে। আবার আজকে সবাই আগেভাগেই মসজিদে চলে এসেছে। আজ মনে হচ্ছে, অন্যান্য শুক্রবারের থেকে মসজিদে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বেশি।
ফিরোজ হোসেন নামের আরেক মুসল্লি বলেন, রমজান মাসে প্রতিটি দিনের আমল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আজকের দিনটি আলাদা, জুমাতুল বিদার গুরুত্ব অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে বেশি। তাই সবাই আগেভাগে মসজিদে এসে নামাজ পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। আর অন্যান্য শুক্রবারের থেকে আজ মসজিদে উপস্থিতি অনেক বেশি এবং একাগ্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনাই করছি যেন তিনি (আল্লাহ) আমাদের সবাইকে মাফ করে দেন এবং আমাদের জীবনকে বরকতময় করেন।
জুমার ফরজ নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় এবং মুসল্লিদের জন্য মাফ প্রার্থনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক এ মুনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় হাজার হাজার মুসল্লির আমিন আমিন ধ্বনিতে পুরো মসজিদ মুখর হয়ে ওঠে। মুনাজাতে আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির কল্যাণ, সাফল্য ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। একই সাথে দেশের শাসক, জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তির জন্য দোয়া করা হয়।
মুফতি আবদুল মালেক মুনাজাতে বলেন, আজকের এই পবিত্র দিনে আল্লাহর কাছে আমরা প্রার্থনা করছি, যেন আমাদের দেশ ও জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছায়, জনগণের জীবনমান উন্নত হয় এবং সব প্রকার অশান্তি, যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বৈষম্য থেকে মুক্তি মেলে। তিনি আরো বলেন, আল্লাহর কাছে আমাদের গোনাহ মাফ করার পাশাপাশি দেশবাসীর জন্য কল্যাণ কামনা করছি। একই সাথে মুনাজাতে রমজান মাসে মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। মুনাজাতে স্থান পায় নির্যাতিত গাজাবাসীর মুক্তির প্রার্থনাও। অন্য দিকে মুসল্লিরাও আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থার সাথে এই মুনাজাতে অংশ নেন। তারাও দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করেন। অনেককেই কান্না করতেও দেখা গেছে।