অভিনন্দন জানানো বিলবোর্ড সরানোর আদেশ

চালের দাম বাড়ায় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Printed Edition
first-2
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সচিবালয়ে তার অফিসকক্ষে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো: জিয়াউল হক সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে মোটা চালের দাম বেড়েছে। গণমাধ্যমের খবরে এই তথ্য জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও চালের মূল্য বাড়ার খবর শুনেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, চালের দাম বাড়ার খবর পেলেই দ্রুত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। গতকাল সচিবালয়ে এসেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, মোটা চাল যেটা প্রান্তিক মানুষের খাদ্য, সেই চাল খুচরা বাজারে বৃদ্ধির সংবাদ গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি সেটা দেখেই মঙ্গলবার দ্রুত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলেন। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিদিনের মতো গতকালও সকাল ৯টার কিছু পরে সচিবালয়ে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো: জিয়াউল হক। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ডের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ড বাহিনীর সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, সমুদ্র উপকূল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোস্টগার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জনগণের স্বার্থে দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের জনসেবামূলক কাজগুলো অব্যাহত রাখার জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে কোস্টগার্ডের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বাহিনীর এই আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই বাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরো সুসংহত করবে। উপকূলীয় ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, ডাকাতি, অবৈধ পাচার ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল বাড়ানো এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ দিকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজ্ঞাপন এবং ব্যানার দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে হাতিরঝিলে পুলিশ প্লাজার সামনে তার ছবি সম্বলিত ব্যানার তখনই সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সেটা তৎক্ষণাৎ সরানো হয়। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বিলবোর্ডে বিভিন্ন কোম্পানির প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তার ছবিসহ বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে সেগুলো দ্রুত অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। কয়েক দিন আগে বিজয় সরণির সড়ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার সময়ে একটি এলইডিতে অভিনন্দন জানিয়ে তার ছবি প্রদর্শিত হচ্ছিল দেখে তিনি তখনই অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

তিন সিটির প্রশাসকের সাক্ষাৎ : অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিন প্রশাসক। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং গাজীপুরের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের পর ঢাকার দুই মেয়র সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, গত কয়েক মাসে যেভাবে রাজস্ব খাত থেকে কালেকশন আসার কথা সেইভাবে আসেনি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কম হয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে অর্থ সঙ্কট পড়েছি। আমরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। আমরা তার কাছে থোক বরাদ্দ চেয়েছি যাতে সিটি করপোরেশন চালানোর জন্য। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমাদের কনসার্ন যে মিনিস্ট্রি লোকাল গভার্মেন্ট মিনিস্ট্রি, সেই মিনিস্ট্রিকেও যাতে তিনি বলেন, যাতে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পে বিভিন্ন কাজে আমাদের সহযোগিতা করা হয়। তিনি বলেন, ঢালাওভাবে তারা (বিগত প্রশাসক) যে সমস্ত ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে সেটার ভিত্তিতে কাজ করলে সিটি করপোরেশন কলাপস করবে। সেটার কোনোভাবে সেটা করা যাবে না।

উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন করপোরেশনের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, করপোরেশন এখন ভঙ্গুর অবস্থায়। ফান্ড নেই অথচ ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে সাবেক প্রশাসক যিনি ছিলেন তিনি ১০ তারিখে শেষ অফিস করে ৩৪টি ফাইল সই করে গেছেন যেখানে বিল দিতে হবে। আসলে কোনো টাকাই নেই। তিনি বলেন, রাজস্ব শাখা থেকে আমি যেটা জানতে পেরেছি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতি মাসে স্যালারি আসে ১৩ কোটি টাকা। ১৩ কোটি টাকা থেকে থাকবে ১২ কোটি- বিচার বিশ্লেষণ আপনারাই করবেন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কিভাবে করব? তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমরা হতাশ নেই এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব জনকল্যাণে যতটুক সেবা দেয়ার প্রয়োজন আছে আমরা সেই বা দেয়ার জন্য আমরা নিজেকে আমরা প্রস্তুত করব এবং জনকল্যাণে আমাদের যে অঙ্গীকার আছে সেটাকে আমরা বাস্তবায়ন করব।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জানাতে গিয়ে দক্ষিণের প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা হলো একটাই যে পরিচ্ছন্ন ঢাকা, সবুজায়ন ঢাকা ও মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষা- এই তিনটা বিষয়ের ওপরে তিনি জোর দিয়েছেন। সামনে যেহেতু বর্ষা আসছে এবং সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে এই কারণে মশাকে যেকোনোভাবেই হোক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর ঢাকাকে ক্লিন করতে হবে, ঢাকা শহর যে বর্জ্যরে একটা কারখানা হয়ে গিয়েছিল সেটা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে।