কেসিসি কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের ৪১ লাখ টাকা লোপাট
দায়ী ইউনিয়ন সভাপতি উজ্জ্বল সাহাসহ ৩ নেতা
Printed Edition
খুলনা ব্যুরো
খুলনা সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহাসহ তিন নেতা ইউনিয়ন পরিচালিত কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের ৪১ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ২০২১ সালে করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সে টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা ফেরত দেননি। কেসিসি কর্তৃপক্ষও টাকা আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ধূমায়িত হচ্ছে।
কেসিসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৪ সালে সিটি করপোরেশনের জন্য অন্যান্য আরো সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী গঠিত কমিটির অষ্টম সভা চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। সভার রেজ্যুলেশনে দেখা যায়, সে সভায় ইউনিয়নের টাকা ফেরতের প্রসঙ্গ আলোচিত হয়। সভায় জানানো হয় ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আত্মসাতকৃত ৪১ লাখ ২০ হাজার ৩০০ টাকা ফেরত দেয়ার জন্য অফিস আদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা ফেরত দেয়া হয়নি। সুদীর্ঘকাল ধরে ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহাকে ওই সভায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি সেখানে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
সভার সভাপতি সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্রশাসক মো: ফিরোজ সরকার বলেন, আত্মসাতের জন্য দায়ীদের টাকা জমা দিতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভার কার্যবিবরণীতে সিদ্ধান্ত হিসেবে লেখা হয়, সর্বসম্মতিক্রমে কেসিসির কর্মচারী ইউনিয়ন কর্তৃক পরিচালিত কল্যাণ তহবিলের আত্মসাতকৃত ৪১ লাখ ২০ হাজার ৩০০ টাকা ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দীন হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার মো: সাইফুর রহমানকে পত্র প্রাপ্তির সাত কার্য দিবসের মধ্যে কেসিসির হিসাব বিভাগে জমা দিয়ে প্রশাসনিক শাখাকে অবহিত করতে হবে। ব্যর্থতায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারপর দুই মাস সাত দিন চলে গেলেও তারা টাকা ফেরত দেননি, কেসিসি কর্তৃপক্ষও আর উচ্চবাচ্য করেনি।
কঠোর সিদ্ধান্ত হলেও উজ্জ্বল বাবু ও তার সহযোগীরা আগের মতই বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চলেছেন। টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। ফলে কর্মচারীদের যারা ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন, নিম্ন বেতনভুক এসব মানুষ ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলে জমা করা টাকা যাওয়ার সময়ে নিতে পারেননি। আগামীতে যারা অবসর নেবেন তারাও পাবেন না। এ নিয়ে কর্মচারীদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, উজ্জ্বল বাবু জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের খুলনা জেলার সভাপতি এবং শ্রম আদালতের পর্যবেক্ষক। গরিব শ্রমিকদের টাকা আত্মসাতকারী একজন মানুষ এসব সম্মানজনক দায়িত্বে কিভাবে অধিষ্ঠিত থাকেন, তা নিয়েও কর্মচারীরা প্রশ্ন তুলছেন।
ইউনিয়নের কয়েকজন সদস্য জানান, উজ্জ্বল বাবু বিএনপিপন্থী শ্রমিক দল করলেও তার কাছে সবসময় লীগের লোকরাই সুবিধা পেয়ে এসেছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী আমলে তিনি ম্যানেজ করেই চলেছেন। এখন পরিবর্তিত সময়ে তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে চলার তরিকা নিয়েছেন। এসব করে তিনি ও তার সেক্রেটারি আওয়ামী লীগার মহিউদ্দীন টাকা ফেরত না দিয়ে বহাল তবিয়তে আছেন। মাঝখানে গরিব কর্মচারীদের টাকা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে কথা বলতে সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী ও সচিব শরীফ আসিফ রহমানকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশিদকে ফোন করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে আমরা নোট উপরে পাঠিয়েছি। এখনো অ্যাপ্রুভ হয়ে ফাইল ফেরত আসেনি।