জিবুতির নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো জয়ী হতে যাচ্ছেন গুয়েলেহর
Printed Edition
আলজাজিরা
পূর্ব আফ্রিকার ছোট উপকূলীয় দেশ জিবুতিতে আজ শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের শাসক প্রেসিডেন্ট ইসমাইল ওমর গুয়েলেহ কোনো জোরালো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই ষষ্ঠবারের মতো জয়ী হতে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলের এই দেশটিতে তার ২৭ বছরের শাসনের মেয়াদ আরো দীর্ঘায়িত হবে।
এরিথ্রিয়া, ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার প্রতিবেশী মাত্র ১০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে এর অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ জিবুতির পাশ দিয়ে যাতায়াত করে। কৌশলগত এই অবস্থানের কারণে এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও চীনসহ বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। জিবুতিকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিদেশী সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশ। ৭৮ বছর বয়সী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইসমাইল ওমর গুয়েলেহ ১৯৯৯ সাল থেকে মতায় আছেন। যদিও বয়স ও মেয়াদের সীমাবদ্ধতার কারণে তার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ ছিল না; কিন্তু গত বছর আইনপ্রণেতারা সংবিধানে পরিবর্তন এনে বয়সের উচ্চসীমা তুলে দেন। এতে তার ষষ্ঠবারের মতো প্রার্থী হওয়ার পথ সুগম হয়। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ফারাহ সামাতার, যিনি মূলত সরকারি দলেরই সাবেক একজন সদস্য। বিশ্লেষকরা এই নির্বাচনকে কেবল নামমাত্র প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনের মূল তথ্যগুলো:
১. ভোটার ও অংশগ্রহণ: জিবুতির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭১ জন ভোটার হিসাবে নিবন্ধিত। আজ শুক্রবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক সংস্থা আইজিএডি এই নির্বাচন পর্যবেণ করতে ১৭ জন প্রতিনিধি পাঠিয়েছে।
২. গুয়েলেহর শাসন ও স্থিতিশীলতা : গুয়েলেহকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে দেশ শাসনের জন্য সমালোচনা করা হলেও, এই অস্থিতিশীল অঞ্চলে জিবুতিকে তুলনামূলক শান্ত রাখার কৃতিত্ব তাকে দেয়া হয়। তার শাসনামলে জিবুতি কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকা সত্ত্বেও বিদেশী সামরিক ঘাঁটি ভাড়া দিয়ে বছরে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করছে। এর মধ্যে মার্কিন ঘাঁটি ক্যাম্প লেমনিয়ার থেকেই আসে প্রায় অর্ধেক অর্থ।
৩. গণতান্ত্রিক সঙ্কট ও দুর্নীতি : বিরোধীরা অভিযোগ করছেন যে জিবুতিতে নাগরিক অধিকার সঙ্কুচিত হচ্ছে। বিরোধীদলগুলো ২০১৬ সাল থেকে নির্বাচন বর্জন করে আসছে। সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের তথ্য অনুযায়ী, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে জিবুতির অবস্থান ১৬৮তম।