ঋতুপর্ণাদের চোখ এবার উত্তর কোরিয়ায়
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
এশিয়ার শীর্ষ আসরে অভিষেক ম্যাচে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে হারলেও বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা লড়াই করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। দুই গোলে হারের পরও মাঠের পারফরম্যান্সে বেড়েছে দলটির আত্মবিশ্বাস। তবে কোচ পিটার বাটলার এরই মধ্যে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিয়েছেন। ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে এখন নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে দল।
ম্যাচের পরদিন অর্থাৎ গতকাল সকালে সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের রিকভারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। যারা চীনের বিপক্ষে ৬০ মিনিটের বেশি খেলেছেন তারা ফিটনেস কোচের তত্ত্বাবধানে হালকা ব্যায়াম করেন। অন্য দিকে কম সময় মাঠে থাকা খেলোয়াড়রা প্রধান কোচের অধীনে প্রায় ৪৫ মিনিট অনুশীলন করেন। এ দিন জিম সেশন রাখা হয়নি, যাতে খেলোয়াড়রা শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা সতেজ থাকতে পারেন।
কঠোর অনুশীলনের মাঝে খেলোয়াড়দের মন ভালো রাখতে সিডনি শহর ঘুরে দেখার আয়োজনও করা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্যাম্প জীবনের পর কয়েক ঘণ্টার ছুটি পেয়ে ফুটবলাররা কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পান। দলটি সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউজ ও রয়্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘুরে দেখে। বিশাল সবুজ পার্ক আর সাগরের ধারে সময় কাটিয়ে খেলোয়াড়রা উপভোগ করেন ভিন্ন এক পরিবেশ।
ঘোরাঘুরির সময় সবাই নিজেদের পছন্দের পোশাকে ছিলেন। কেউ ছবি তুলেছেন, কেউ আবার ভিডিও করেছেন মজার মুহূর্তের। অপেরা হাউচের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই স্মৃতিবন্দি করেছেন নিজেদের উপস্থিতি। কাছেই থাকা হারবার ব্রিজকে একই ফ্রেমে রাখার চেষ্টা করেছেন অনেকে। দলের মিডিয়া ম্যানেজার ও টিম ম্যানেজার খেলোয়াড়দের ছবি তুলতে সহায়তা করেন। গরম আবহাওয়ার মধ্যে কয়েক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটির পর ক্লান্তি কাটাতে কেউ পানি পান করেছেন, কেউ আইসক্রিম খেয়ে একটু স্বস্তি পেয়েছেন। সংক্ষিপ্ত এই ভ্রমণ শেষে আবার হোটেলে ফিরে যায় দল।
চীনের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়মিত গোলকিপার রুপনা চাকমার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান তরুণ গোলরক্ষক মিলি আক্তার। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগাতে তাকে বেছে নেয়া হয়। ১৯ বছর বয়সী এই গোলকিপার কোচের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন পারফরম্যান্স দিয়ে। ১১টি অনটার্গেট শটের মাঝে আটটিই রুখে দিয়েছেন।
গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদের মতে, মিলিকে নিয়ে পরিকল্পনা অনেক আগেই করা হয়েছিল এবং চীনের শক্তি বিশ্লেষণ করেই তাকে দলে নেয়া হয়। তার মতে, দলের খেলোয়াড়রা কোচদের পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন বলেই চীনের বিপক্ষেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। টিম ফিজিওর প্রতিবেদনে জানা গেছে, দলের সবাই সুস্থ আছে, কেউ গুরুতর চোটে নেই। ম্যাচ-পরবর্তী স্বাভাবিক ব্যথা ছাড়া সবাই সুস্থ আছেন। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের জন্যও প্রস্তুত সবাই!