মানবঢেউ ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে ঘুওে দাঁড়ানোর চেষ্টা মিয়ানমার জান্তার
Printed Edition
রয়টার্স
টানা সাত দিন ধরে অবস্থান ধরে রেখেছিলেন বিদ্রোহী যোদ্ধা খান্ত ও তার সঙ্গীরা। কিন্তু তাদের ওপর কামান আর ড্রোন দিয়ে একের পর এক আঘাত হানছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। খান্ত একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা। জান্তা ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলে নেয়ার পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে বহু লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু অক্টোবরে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে ওই লড়াইয়ে যে তীব্রতা দেখেছেন তা এর আগে দেখেননি।
মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুন ও রাজধানী নেপিদোর প্রায় মাঝামাঝি গ্রাম পাজুন মিউংয়ে দুইপক্ষের মধ্যে লড়াইটি হচ্ছিল। খান্ত ও আরেক বিদ্রোহী হটাইক জানান, গোলাবর্ষণের পর শুরু হয় একের পর এক পদাতিক বাহিনীর ঢেউ। ‘ওদের কাছে যত শক্তি ছিল, সব ঢেলে আক্রমণ চালিয়েছে,’ পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এ কঠিন লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন হটাইক। এক সপ্তাহের মাথায় ক্ষয়ক্ষতি আর সামলানো সম্ভব হয়নি। বিদ্রোহীরা পিছু হটে কাছের একটি ঘাঁটিতে চলে যান। দুই বছর আগে বিদ্রোহীদের বড় ধরনের অভিযানে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকার বিশাল অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। কিন্তু রয়টার্সের সাথে কথা বলা ছয় বিদ্রোহী যোদ্ধা ও তিন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, এখন যুদ্ধক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অবস্থান ফিরে পাচ্ছে জান্তা।
তাদের কৌশলে এসেছে বড় পরিবর্তন। বাধ্যতামূলক সেনাভর্তি, ড্রোন বহরের বিস্তার আর চীনের কূটনৈতিক ও আর্থিক সমর্থনে এসব পরিবর্তন এসেছে। এসবের জোরে পরাজয় বা অচলাবস্থার পর কিছু এলাকা ফের দখলে নিতে পেরেছে সেনাবাহিনী। তিন বিদ্রোহী যোদ্ধা জানান, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে তারা সেনাদের ‘মানবঢেউ’ কৌশল ব্যবহার করতে দেখেছেন, যা আগে এভাবে দেখা যায়নি।
‘একজন মারা গেলে সাথে সাথে আরেকজন তার জায়গা নিচ্ছিল,’ বলেন খান্ত। তার দাবি, কিছু সেনাকে বন্দুক তাক করে সামনে এগিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছিল। কিন্তু আগে ক্ষয়ক্ষতি বাড়লেই সেনারা দ্রুত পিছু হটত, জানান বিদ্রোহীরা।সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কৌশল বদলের বিষয়ে প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। জান্তা বিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকারও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক আইএসইএএস ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জান্তা অন্তত তিনটি রাজ্যে সীমিত পরিসরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে অগ্রগতি অসম। বিভিন্ন এলাকায় শক্তির ভারসাম্য ভিন্ন হওয়ায় দেশজুড়ে একক কোনো পক্ষের আধিপত্য নেই।
এই পাল্টা আক্রমণের সময়ই সামনে ২৮ ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারে শুরু হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন, যা জাতিসঙ্ঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মুক্ত বা সুষ্ঠু হবে না।