গ্রন্থমেলায় প্রাণের উৎসব
সুনসান লিটলম্যাগ চত্বর
Printed Edition
আবুল কালাম
মেলা শুরুর দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত সুনসান ছিলো লিটলম্যাগ চত্বর। বিগত সময়ে এখানে তরুণ লেখক, কবি আর মননশীল পাঠকদের আড্ডায় মুখর থাকলেও এখন সেখানে নেমে এসেছে নির্জনতা। আগতরা বলছেন অবস্থায় মনে হচ্ছে জৌলুস হারাতে হারাতে বসেছে লেখকদের এ জনপ্রিয় চত্বর। কারণ গত কয়েক বছর ধরেই এমনটা হচ্ছে। পাঠকরা বলছেন, বিগত সময়ে এর জৌলুস ছিলো। বইমেলা মানেই ছিল লিটলম্যাগ চত্বরে কবি, লেখক, প্রকাশকদের জমজমাট আড্ডা। উৎসাহী ক্রেতা-পাঠকরাও কবি-লেখকদের সান্নিধ্য পেতে একবার হলেও সেখানে আসতেন।
লিটলম্যাগের প্রকাশকরা বলছেন, চত্বরকে যেভাবে গোলাকৃতি বেষ্টনীর মধ্যে আলাদা করে রাখা হয়েছে, তাতেও দর্শনার্থীদের প্রবেশ কমে গেছে। মনে হয় যেন বইমেলার বাইরের কোনো অংশে বসে আছি। অথচ এটি তো মেলারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ৮৭টি স্টলের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বন্ধ। আর যে কয়টি খোলা আছে সেগুলোও প্রাণহীন। অনেক স্টলে শুধু বই সাজানো থাকলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো বিক্রয়কর্মীকে। সামিয়ানা দিয়ে ঘেরা এ চত্বরে এখন বইয়ের চেয়ে ধুলো আর মশার দাপটই বেশি। চত্বরের ‘নিসর্গ’, ‘চিরহরিৎ’, ‘জলছবি’, ‘লিরিক’, ‘দুই পাতার আভাস’, ‘্যাপা’সহ বেশ কয়েকটি স্টল প্রায় খালি।
গতকাল তথ্যকেন্দ্রে মেলার নতুন বই জমা পড়েছে ৮২টি। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : মুস্তাফা জামান আব্বাসী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শারমিনী আব্বাসীর লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা মোকারম হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন আশরাফুজ্জামান বাবু। সভাপতিত্ব করেন ওয়াকিল আহমদ।
প্রবন্ধিক বলেন, প্রখ্যাত লোকসঙ্গীতশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার আব্বাস উদ্দীন আহমদের পুত্র মুস্তাফা জামান আব্বাসী ছিলেন বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের একজন মহিরুহ। শুদ্ধ, সুন্দর, সুপুরুষ জ্যোতিবিভাসিত অন্তর ছিল তার। তিনি লোকসঙ্গীতকে ব্রাত্যজনের সভায় তুলে আনতে সবসময় সচেষ্ট থেকেছেন।
আশরাফুজ্জামান বাবু বলেন, মুস্তাফা জামান আব্বাসীর সঙ্গীত ও সাহিত্যকর্ম সমাজের সব স্তরের মানুষকে আকৃষ্ট করেছে।
ওয়াকিল আহমদ বলেন, শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী ছিলেন প্রথিতযশা সঙ্গীত পরিবারের সন্তান। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি। তিনি নিজে গান করেছেন এবং লোকসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য আজীবন চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন আতাহার খান, ফজলুল হক তুহিন এবং জামশেদ ওয়াজেদ। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন অগ্নিতা শিকদার মুগ্ধ।
আজ শুক্রবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান। সকাল সাড়ে ১০টায় শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : বদরুদ্দীন উমর শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ফিরোজ আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেবেন সুমন রহমান। সভাপতিত্ব করবেন আনু মুহাম্মদ। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মেলায় এসেছে রফিকুল ইসলামের ‘বনি ইসরায়েল : উত্থান-পতন ও বিশ্বরাজনীতি’। বইটি হযরত ইবরাহীম আ: থেকে নবী মুহাম্মদ সা:-এর সময় পর্যন্ত বনি ইসরাইলের ইতিহাস, তাদের উত্থান-পতন, ধর্মীয় সঙ্ঘাত এবং বিশ্বরাজনীতিতে তাদের প্রভাব কুরআন, হাদিস ও ঐতিহাসিক দলিলের আলোকে তুলে ধরে।
‘রিভিলেশন : দ্য স্টোরি অব মুহাম্মদ সা:’ ড. মিরাজ মুহিউদ্দিন রচিত একটি অনন্য সীরাত গ্রন্থ, যা বাংলায় অনুবাদ করেছেন প্রখ্যাত আলেম ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। এটি মূলত সিরাত পাঠের প্রথাগত সংজ্ঞা বদলে দেয় এবং নবী মুহাম্মদের সা: জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো চমৎকারভাবে উপস্থাপন করে। এটি প্রকাশ করেছে আনোয়ার লাইব্রেরী। এটি রকমারি ডট কম থেকে কেনা যাবে।
আসিফ রচিত ‘পৃথিবীর ভবিষ্যৎ : বিশ্বের তিনজন শ্রেষ্ঠ মনীষীর ভাবনায়’ বইটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত। এ বইয়ে পৃথিবীর ভবিষ্যতের ওপর শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদদের ভাবনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে পৃথিবীর গতিপথ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রভাবশালী মনীষীদের মতামতগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
মেলায় প্রকাশ পেয়েছে সাংবাদিক, কবি তৌহিদুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ ‘হৃদয় পোড়া গন্ধ’। মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৫৫৭ নম্বর স্টলে কাব্যগ্রন্থটি পাওয়া যাচ্ছে।
‘ভালোবাসতে পারো আমায়’ তুহিন সুলতানা মুক্তির কাব্যগ্রন্থ। বইটি প্রকাশ করেছে ইছামতি প্রকাশনী। এটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।