শাহজাদপুরে নিউমোনিয়া ঝুঁকিতে শিশুরা
Printed Edition
আবুল কাশেম শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শীতের শুরুতেই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। প্রায় সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মানুষের অধ্যুষিত এই বৃহৎ উপজেলায় চিকিৎসাসেবার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মাত্র চারজন চিকিৎসক। শিশু রোগের জন্য আলাদা কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় আক্রান্ত শিশুরা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নভেম্বর মাসেই শাহজাদপুর পৌর সদরে অবস্থিত একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালে তিন শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে দুই শতাধিকই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিউমোনিয়া ছাড়াও অ্যাজমা, রাইনাইটিস, ঠাণ্ডাজনিত কাশি, জ্বর, কোল্ড ডায়রিয়াসহ নানা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন শিশুরা চিকিৎসা নিতে আসছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে রোগীর চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। তবে এ বেসরকারি হাসপাতাল তাদের চিকিৎসাধীন নিউমোনিয়া রোগীদের মৃত্যুহার শূন্য থাকার কথা জানিয়েছে।
অভিভাবকরা জানান, শিশুবিশেষজ্ঞ না থাকায় সরকারি হাসপাতালে গিয়েও সঠিক সেবা না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে শহরের বেসরকারি হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা করাচ্ছেন। এতে প্রতিদিন পৌর সদরের শিশু হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। সরকারি সেবার ঘাটতির কারণে পরিবারগুলোকে আউটডোর ফিতে দেড় শ টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য কঠিন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাসুদ রানা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিক চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে প্রায় সাত লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা বাস্তবসম্মত নয়। ডাক্তার সঙ্কটের কারণেই শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয় রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পদায়ন হলে শিশুদেরও সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে। শীতের প্রকোপ সামনে আরো বাড়লে রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।