ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প

চ্যালেঞ্জে ইলিশ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

কাওসার আজম
Printed Edition

দেশের ইলিশ উৎপাদন পাঁচ বছরে ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন থেকে ছয় লাখ ২০ হাজার টন অর্থাৎ প্রায় ৮৭ হাজার টন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নেয়া হয় একটি প্রকল্প। মৎস্য অধিদফতর বাস্তবায়নাধীন ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (প্রথম সংশোধিত)’শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শুরু হয়। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত তথা প্রায় সাড়ে চার বছরে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৫৮ শতাংশ। প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্য আরো ৪২ শতাংশ অর্জন করা ছিল চ্যালেঞ্জিং। তাই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদন বলছে, প্রকল্প সমাপ্তের পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদনে ধারা অব্যাহত থাকলে প্রকল্পের লক্ষমাত্রা ইলিশ উৎপাদন ছয় লাখ ২০ হাজার টনে উন্নীত করা চ্যালেঞ্জিং হবে।

প্রকল্পের উদ্দশ্য অর্জনে চ্যালেঞ্জসমূহে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরির্বতনজনিত অভিঘাত, পলি পড়ে নদীতে ডুবোচর জেগে উঠা, নদীর মোহনায় পলি পড়ে নব্যতা হ্রাস, ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র সঙ্কোচন, পানি দূষণ, ইলিশ আহরণ চাপ বৃদ্ধি, মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে বাধাগ্রস্ত হওয়া, ভারী নৌযান চলাচল ইত্যাদি ইলিশ উৎপাদন হ্রাসের অন্যতম কারণ বলে প্রতীয়মান হয়। ইলিশের ওপর দেশের পাঁচ-ছয় লাখ মৎস্যজীবী নির্ভরশীল এবং তারা রাতদিন ক্রমাগতভাবে মৎস্য আহরণ করে থাকে। মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে বিস্তৃত নদী ও উপকূলীয় এলাকা শুধু প্রশাসিনক উদ্যোগ এবং আইনের মাধ্যমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা একটি চ্যালেঞ্জ বলে বিবেচিত।

প্রকল্পটির দুর্বল দিকগুলো বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইলিশ অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে দ্রুতগামী জলযান না থাকায় অভিযান/বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা এবং তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। প্রকল্পভুক্ত ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সীমানা চিহ্নিহ্নতপূর্বক কোনো লাল পতাকা/সাইনবোর্ড স্থাপিত হয়নি এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ক্ষতিকর জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও ফ্যাক্টরি পর্যায়ে অবৈধ জালের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।

প্রকল্পটির সুফলের দিকসমূহের বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রকল্পভুক্ত জেলেদের মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালীন বিকল্প কর্মসংস্থান তথা পারিবারিক আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। জেলেদের আবাসিক প্রশিক্ষণের সংস্থান থাকায় তাদের আত্মবিশ্বাস, জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসাধারণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঝুঁকির দিকগুলো বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এ নিষিদ্ধ ঘোষিত জালের উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করতে না পারা; জেলে কর্তৃক ইলিশ আহরণে অধিক কার্যক্ষম নৌকা, জাল ও ইঞ্জিন ক্রয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইলিশ ও জাটকা আহরণ চাপ আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২৭৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এপ্রিল ২০২৫ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ১৬০ কোটি টাকা বা প্রায় ৫৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে আরডিপিপির সংস্থানেসর চেয়ে অর্থ ছাড় কম হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি হ্রাস পেয়েছে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত ২৯টি জেলার ১৩৪টি উপজেলা। প্রকল্পের মূল লক্ষ্যে জাটকা (কিশোর ইলিশ) এবং মা ইলিশ সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। প্রকল্পের উদ্দেশে বলা হয়েছে, মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিকরণ; দক্ষতা বৃদ্ধিপূর্বক জাটকা ও মা ইলিশ আহরণকারী ৩১ হাজার ৭০০টি জেলে পরিবারের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জেলেদের ১১ হাজার বৈধ জাল বিতরণ ও ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।

প্রকল্পটির উপপ্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানান, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বেড়েছে, তবে খরচ বাড়েনি।