সিইসির সাথে বৈঠক শেষে বিএনপির ব্রিফিং
মিডিয়ায় দেখি নারীর লাখ লাখ বিশেষ কাপড় তৈরি হচ্ছে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
নির্বাচনের আগে ভোটারদের টাকা দেয়াসহ নানা ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানানো হয়েছে। কমিশন বিষয়গুলো দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছে। আইন অনুযায়ী যার যার জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্বপালনের অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, মিডিয়ায় দেখি নারীদের লাখ লাখ পিস বিশেষ কাপড় তৈরি হচ্ছে, ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে, সিলসহ ধরাও পড়ছে।
গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের একদিন আগে ইসি সচিবালয়ে এসে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক করে বিএনপির একটি দল। এ সময় ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বৈঠকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক ইসি সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়াসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি চায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এ জন্য আমাদের প্রার্থী ও এজেন্টদের যে হোয়াটসঅ্যাপ আসে সেখানে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত না হয়। বহু কাক্সিক্ষত এ নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশন যাতে আইনানুগ ভূমিকা পালন করে সেজন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। টকশোতে যাদের কথায় আমরা আশান্বিত হই এবং আপ্লুত হই, তেমন মানুষ ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন। এটি কমিশন কিভাবে দেখছেন সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে। কমিশন বলেছে, তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। আমরা বলেছি যারাই অন্যায়, অনৈতিক এবং বেআইনি কাজ করবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, মিডিয়ায় দেখি নারীদের লাখ লাখ পিস বিশেষ কাপড় তৈরি হচ্ছে। ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে, সিলসহ ধরাও পড়ছে। ইসি এসব দেখার পরও তেমন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এসব ঘটনা নির্বাচনের দিন দেখার বিষয় নয়, আগেই কেন তাদের নজরে আসছে না। গোয়েন্দাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীই এখন ইসির অধীন। তা হলে কেন আগে থেকেই্ জানা যায় না। কিছু কিছু লোক নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করেন। এটা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছেন না। ইসিকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আইন অনুযায়ী যার যার যে ভূমিকা তা কঠোরভাবে পালন করা উচিত।
তিনি বলেন, বিভিন্নœ গণমাধ্যমে খবর এসেছে মাঠপর্যায়ে অমুক ডিসি অমুক দলের লোক। কোন দলের ডিসি কত জন এ রকম হিসাব দেয়া হচ্ছে। এটা হয়তো গুজবও হতে পারে, কেননা এ রকম গুজব ছড়িয়ে দিয়ে কর্মীদের বলা হতে পারে যার যেটা ইচ্ছে কর, আমাদের লোক আছে কিছু করবে না। এটাকে আমরা গুজব হিসেবেই দেখতে চাই। তবে ইসিকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনো কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড কোনো বিশেষ দলের পক্ষে না হয়। এ রকম কিছু নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখনো নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। একদিন বাকি আছে, আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না। কেননা যে দল নির্বাচন চায় না সেটি তো নির্বাচনে নেই। আর যেসব দল নির্বাচনে আছে আমরা সবাই মিলে তো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আশা করছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের দল বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন সকালে মাঠপর্যায়ে ব্যালট বাক্স গেলে খুশি হতাম। কিন্তু দেশে অনেক এলাকা দুর্গম আছে। থানা হেডকোয়ার্টার থেকেও অনেক দূর। সেসব এলাকায় রাতে ব্যালট বাক্স পাঠানো নিরাপদ নয়। তবে ব্যালট বাক্স স্বচ্ছ থাকবে। এতে চারটি লক থাকবে। ভোটের মাধ্যমে ভরে গেলে আরো একটি লক দেয়া হবে। শেষে যখন এসব বাক্স খোলা হবে তখন এজেন্টদের সামনেই খোলা হবে।
জঙ্গি হামলার আশঙ্কা আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জঙ্গি হামলা অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে বড় করে দেখানো হয়। এটা শুধু আইন দিয়ে সমাধান হবে না। এ জন্য সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।