বাংলাদেশকে আর কেউ পদানত করতে পারবে না : মাহমুদুর রহমান

Printed Edition
3rd-1
ইনসাফ বারাকাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে আর কেউ কোনো দিন পদানত করতে পারবে না। যে ভারত দাবি করে যে তারা ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিল, সেই ভারতই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ বারবার তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। গতকাল মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল আয়োজিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও বারাকাহ ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ যেমন পঁচাত্তরে জয়ী হয়েছে তেমনি নব্বই এবং চব্বিশে জয়ী হয়েছে। ভারত যত বড় দেশই হোক না কেন, তাদের বুঝা উচিত বাংলাদেশের ১৮ কোটি লড়াকু জনগোষ্ঠীকে তারা পরাজিত করতে পারবে না।

ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা: এম ফখরুল ইসলাম।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সালাম ও শ্রদ্ধা জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা বীর ছিলেন, দেশের জন্য লড়াই করেছিলেন এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদেরকে একটি স্বাধীন দেশ এনে দিয়েছেন। শুধু বিজয় দিবস নয়, আমাদের জাতির জীবনে যে দিবসগুলো গুরুত্বপূর্ণ সবগুলো আমাদের স্মরণ রাখা উচিত। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের বাঙালি মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১৯৪৭ সাল, কারণ সেই সময়ই প্রথম বাঙালি মুসলমানের জন্য স্বাধীন দেশ হয়েছে। একই সাথে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস গুরুত্বপূর্ণ দিন। একই সাথে মনে রাখতে হবে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবও গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনগুলো বাংলাদেশীদের জন্য গর্বের দিন, স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার দিন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া শান্তর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শান্তর বাবা একজন মুদি দোকানদার। এই ছেলেগুলোকে দেখলে আমার মনটা ভালো হয়ে যায়, এরাই আমাদের শক্তি। ভৌগোলিকভাবে আমরা একটা ক্ষুদ্র দেশ, কিন্তু আমাদের শক্তি ১৮ কোটি মানুষ। এর মধ্যে শান্তর মতো ছেলেরা আগামীর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে। মাঝে মধ্যে দেখি আমাদের রাজনীতিবিদরা, যারা তথাকথিত এলিট সমাজ হিসেবে পরিচিত, তারা মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করেন, গরিবের সন্তান হলে তাচ্ছিল্য করেন। তারা নিজেদের অতীত ভুলে যান।

মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবে ক্লাস টেনে পড়া কিশোর শহীদ আনাস নতুন করে বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে বলে মায়ের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। এরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এরা যত দিন বেঁচে থাকবে বাংলাদেশের কেউ কোনোদিন ক্ষতি করতে পারবে না। হাদি আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে। হাদি যদি নাও থাকে তবে তার স্মৃতি বাংলাদেশের জন্য এক ইতিহাস হয়ে থাকবে। হাদি যে অবস্থানে পৌঁছে গেছে, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক নেতার পক্ষে তা সম্ভব কি না জানি না। আমি আনন্দিত যে, ইনসাফ বারাকা হাসপাতাল বিজয়ের দিনে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মতিয়ার রহমান বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবস অন্যবারের চেয়ে আলাদা। মুক্তিযুদ্ধের যে চাওয়া ছিল সেটিকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের চেতনা বুকে নিয়ে দেশগঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বারাকা ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: রুহুল আমিন, এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: সৈয়দ আফজালুল করিম, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো: আলতাফ হোসেন, ডা: নাজনীন কবীর প্রমুখ।