রাঙা কৃষ্ণচূড়ায় সেজেছে চিত্রা পাড়ের জেলা নড়াইল
Printed Edition
শরিফুজ্জামান লোহাগড়া (নড়াইল)
ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতুচক্রের ছোঁয়ায় প্রকৃতিতে ফোটে নানা রঙের ফুল। প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে অপার সৌন্দর্যে। নয়নাভিরাম এসব ফুলের সমারোহে প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরো সজীব, আরো মোহনীয়। গ্রীষ্মের শুরুতেই নড়াইলে প্রকৃতিতে ফুটেছে তেমনই এক মনভুলানো ফুল আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া। তপ্ত রোদ আর শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যেও প্রকৃতিতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে এই অপরূপ ফুল। প্রকৃতির এই চোখজুড়ানো সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা, ফুলপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এটি একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত একটি শোভাবর্ধক বৃক্ষ। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি আগুনচূড়া, লালচূড়া বা গুলমোহর নামেও পরিচিত। কৃষ্ণচূড়া ফুল সাধারণত উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় লাল রঙের হয়, যা দূর থেকে আগুনের শিখার মতো দেখায়। তবে এদের মধ্যে কমলা এবং হলুদ রঙের বৈচিত্র্যের প্রজাতিও দেখতে পাওয়া যায়। এ ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। কৃষ্ণচূড়া সাধারণত বসন্তের শেষ দিকে ও গ্রীষ্মের শুরুতে প্রস্ফুটিত হয়ে প্রকৃতিকে উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে তোলে।
সরেজমিন নড়াইলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ির আশপাশের কৃষ্ণচূড়া গাছজুড়ে ফুটেছে গাঢ় লাল রঙের ফুল। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে সবুজ প্রকৃতি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকে যেন লাল আগুন জ্বলে উঠেছে। এ ফুলের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে কেউ কেউ মোবাইলফোনে স্মৃতি ধরে রাখছেন। কেউ বা আবার ফুলসমেত নিজেকে ক্যামেরাবন্দী করছেন। কিশোরী ও তরুণীরা খোঁপায় ও বেনিতে দিচ্ছেন ফুল।
সমাজসেবক লক্ষ্মীপাশার সনি চৌধুরী বলেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটলে মনে হয় গ্রীষ্ম সত্যিই এসে গেছে। ব্যস্ততার মধ্যেও কিছু সময় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে এক ধরনের প্রশান্তি পাওয়া যায়। আরেক ফুলপ্রেমী ও কলেজ প্রভাষক রূপক মুখার্জি বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু একটি ফুল নয়, এটি আমাদের আবেগের সাথে জড়িয়ে আছে। সহকারী অধ্যাপক ও পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েসের জেলার সহসমন্বয়ক কামরুন্নাহার লীনা বলেন, শুধু সৌন্দর্য নয়, কৃষ্ণচূড়া গাছ পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই গাছ ছায়া দেয় এবং গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে পথচারীদের কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। গ্রিন ভয়েসের উপদেষ্টা সদস্য শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান বলেন, এ সময়টায় কৃষ্ণচূড়া ফুল প্রকৃতিকে রঙিন করে তুলেছে। আসা-যাওয়ার পথে এ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই।
লোহাগড়ার দিঘলিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন মোল্লা বলেন, ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতা ও ফুল বিভিন্ন ভেষজ প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে শরীরের প্রদাহ কমানো, ক্ষত শুকানো এবং কিছু ত্বকের সমস্যায় এর নির্যাস উপকারী বলে বিবেচিত।