ছেংগারচর পৌরসভার উন্নয়ন শুধু কাগজে
প্রথম শ্রেণীর কর দিয়েও তৃতীয় শ্রেণীর সেবা
Printed Edition
সুমন আহমেদ মতলব (চাঁদপুর)
কাগজে-কলমে ছেংগারচর এখন প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। কিন্তু বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ উল্টো। দৈনন্দিন নাগরিক সুবিধা, মৌলিক সেবা, রাস্তাঘাট, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা- কোনোটিতেই নেই প্রথম শ্রেণীর সেবা। ফলে বাসিন্দাদের মন্তব্য, ‘কর দিই প্রথম শ্রেণীর, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণীরও কম।’
ছেংগারচর পৗরসভা ১৯৯৮ সালে ‘গ’, ২০১১ সালে ‘খ’ এবং ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হয়। উন্নীত হওয়ার পেছনে মূল ভিত্তি ছিল জমি রেজিস্ট্রির ওপর ২ শতাংশ হারে অধিক কর আদায় এবং বছরে এক কোটি টাকার রাজস্ব নিশ্চিত করা। কিন্তু অবকাঠামোগত বাস্তবতায় পৌরসভাটি এখনো পিছিয়ে রয়েছে অনেকখানি। পৌর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫০ কিলোমিটার রাস্তার অর্ধেকই এখনো কাঁচা। আর যেটুকু পাকা, তার বেশির ভাগই ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় কাদা, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে।
পৌরসভার ৯৭ শতাংশ বাড়িতে পানিসংযোগ নেই। যে অল্পসংখ্যক পরিবারে সংযোগ আছে, সেখানেও যথারীতি পানি পাওয়া যায় না। এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা পরিষদ ভবনেও পৌরসভার পানি পৌঁছায় না। নিয়োগকাঠামো অনুযায়ী পৌরসভায় স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা ১৫৫ জন। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। জনবল সঙ্কটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি সরবরাহ, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ- সবই ‘খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে’ চলছে। এ দিকে ছেংগারচর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, জলশোধনাগার আছে কিন্তু পরিচালনার মতো জনবল নেই। নানা সঙ্কট সমাধানে মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পৌরবাসীর প্রত্যাশা, কাগজে নয়, বাস্তবেও যেন ছেংগারচর ‘প্রথম শ্রেণীর’ পৌরসভা হয়ে ওঠে।