তেল পাচার ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি
Printed Edition
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
আসন্ন পয়লা বৈশাখ ও কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ এবং পাচার ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ‘অপারেশনাল অ্যালার্ট’ জারি করে সীমান্তজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা চুয়াডাঙ্গায় তেল পাচার, চোরাচালান ও মূল্য অস্থিরতা রোধে সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। যশোর রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, বিশেষ টহল জোরদার এবং সন্দেহভাজন যানবাহনে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১৯টি বিওপি ও একটি আইসিপির মাধ্যমে প্রতিদিন দিবারাত্রি ৮১টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট যানবাহনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১টি বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়।
সীমান্তবর্তী ১৪টি তেল পাম্পে নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি কড়াকড়ি চেকিং চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পাচার রুট চিহ্নিত করে সেখানে এক হাজার ২১৫টি টহল এবং ১৬৫টি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অভিযান পরিচালনার কাজ চলমান রয়েছে।
শুধু অভিযান নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এ পর্যন্ত ১৫টি মতবিনিময় সভা আয়োজন করে তেল পাচারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্ত পথে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল পাচার হতে দেয়া হবে না। বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং সন্দেহজনক যেকোনো চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানিসম্পদ সুরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।