কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু দুই শ’ বিশেষজ্ঞের তালিকা প্রস্তুত
Printed Edition
- ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলামের পাঠ্যবই
- অগ্রাধিকার পাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা ও ভাষা
শাহেদ মতিউর রহমান
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন কারিকুলাম (শিক্ষাক্রম) পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক শ্রেণীভেদে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়ে কমিটির একটি খসড়াও প্রস্তুত করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এই কমিটি চূড়ান্তভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই তারা বিদ্যমান পাঠ্যবইয়ের কিছু বিষয় পরিবর্তন কিংবা পরিমার্জন করবে। আর পুরো কারিকুলামে পরিবর্তন আনতে সামগ্রিকভাবে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই কাজ শুরু করে সেটি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত এবং ভিনদেশী কারিকুলাম আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর সেই কারিকুলাম বাতিল করা হয়েছে। তবে শিক্ষা সেক্টরের সাময়িক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূর্বের (২০১২ সালের) কারিকুলামে ফিরে যায় এবং কিছু মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন এনে কম সময়ের মধ্যেই মুদ্রনের কাজ শেষ করে পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়। অবশ্য তখন থেকেই শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের অনেকেই জানিয়েছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবং নির্বাচিত সরকার দেশের দায়িত্বভার গ্রহণের পর নতুন করে শিক্ষা কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এনে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই কারিকুলাম এবং শিক্ষা পরিকল্পনা সাজাবেন।
এখন নতুন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি নিজেই কারিকুলামে আমূল পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ছেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শিক্ষা কারিকুলামে হয়তো সব কিছু পরিবর্তন করা যাবে না, তবে কিছু বিষয়ে পরিমার্জনের জন্য তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সাথে পরের বছরে অর্থাৎ ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে সামগ্রিকভাবে পুরো শিক্ষা কারিকুলামে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান বাড়ানোর বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেবেন বলে জানান।
এ দিকে গতকাল সোমবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের কাজের জন্য বিষয়ভিত্তিক দক্ষ টীম নিয়ে কাজ শুরু করেছি। বিভিন্ন সময়ে এনসিটিবির সাথে কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। একটি খসড়া তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন এই তালিকাটি আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। সেখান থেকে এই কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পরই কাজ এগিয়ে যাবে। তবে আমাদের সময়ের বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে কাজে যেন কোনো বিলম্ব না হয় সেজন্য চলতি মাসের ৩০ তারিখ টার্গেট নিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। যদিও এর মধ্যে ঈদের ছুটিসহ ৮ থেকে ১০ দিনের একটি লম্বা ছুটি আছে, এরপরও আমাদের টার্গেট ৩০ মার্চের মধ্যেই আমরা আমাদের অংশের কাজ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে পারব।
এ বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. এ কে এম মাসুদুল হক নয়া দিগন্তকে জানান, বিভিন্ন শ্রেণীর বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের একটি খসড়া তালিকা আমরা প্রস্তুত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবো। এই কমিটির অনুমোদন হলেও পাঠ্যপুস্তকের পরিমার্জনের কাজ শুরু করা হবে। তবে এই পরিমার্জন হবে শুধু ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য। আর ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবইয়ে আরো বড় আকারে পরিবর্তন আসবে। আমরা সেই কাজও অতি দ্রুতই শুরু করব।
এর আগে গত ৩ মার্চ এনসিটিবির কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন শিা ও প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এনসিটিবি কার্যালয়ে ওই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শিাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। পাঠ্যপুস্তক যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিামন্ত্রী বলেন, আবারো শতভাগ পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করতে হবে। কোমলমতি শিার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক জোর দিয়ে শিামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক স্তরের (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম-১০ম) ‘শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিা’ পাঠ্য বইটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সাথে এই বিষয়টির ওপর মূল্যায়ন পরীা নেয়ার কথাও জানান তিনি। শিা ও প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রী আরো বলেন, উচ্চমানের বিশেষজ্ঞ দিয়ে কারিকুলাম প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করতে হবে। এ েেত্র কোনো দলীয় স্বার্থ বিবেচনা করা যাবে না।