হিন্দু সম্প্রদায় নেতাদের দাবি
ডিমলায় উত্তেজনা রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক নয়
Printed Edition
ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারী-১ আসনের ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঠাকুরের স্কুল এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাকর ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, ‘এটি মূলত নির্বাচনী উত্তেজনা থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংঘাত; সাম্প্রদায়িক বিরোধ নয়।’
গতকাল বুধবার সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক বিরোধের কোনো প্রমাণ মেলেনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, তাদের সাথে কোনো পক্ষেরই বিরোধ বা সংঘর্ষ হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বাড়ির মালিক অমল কুমার চক্রবর্তী জানান, রাতে রাস্তার পাশে এক প্রার্থীর ভাইয়ের সাথে তার নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগসংক্রান্ত আলোচনা হচ্ছিল। ‘ভোট কেনাবেচা বা টাকা বিতরণের কোনো বিষয় ছিল না।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চার-পাঁচটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন এসে সেখানে দাঁড়ানো একটি গাড়িতে খেজুর গাছের স্টিকার দেখে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এ নিয়ে বাগি¦তণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পাশের খড়ের গাদায় আগুন লাগে। ‘কে আগুন দিয়েছে বলতে পারি না। আমরা সবাই মিলে আগুন নিভিয়েছি,’ বলেন অমল কুমার।
তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াতের কেউ আমাদের কাছে ভোট চাইতে আসেননি। হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে কারও কোনো বিরোধ হয়নি। বিএনপি-জমিয়ত ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, তবে এটি সাম্প্রদায়িক আক্রমণ নয়।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শ্রী ধনঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, একটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা লোকজন নিজেদের মধ্যে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। ‘হঠাৎ দেখি খড়ের গাদায় আগুন। আতঙ্কে আমি একটি ভুল মন্তব্য করেছিলাম, যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তার দাবি, খেজুর গাছ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল, তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে কোনো বিরোধ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়। নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়লেও কোনো পক্ষের উচিত নয় ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া।
ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, এক প্রার্থীর ভাই এজেন্ট নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে অন্য পক্ষের সন্দেহ ছিল, তারা হয়তো টাকা বিতরণ করতে এসেছেন। এই ভুল বোঝাবুঝি থেকেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
খড়ের গাদায় আগুন লাগার বিষয়ে ওসি জানান, উপস্থিত কেউই সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী ব্যক্তির নাম বলতে পারেননি। অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।