ইসরাইলের ওপর হামলা কমাবে তবে অস্ত্র ছাড়বে না হামাস

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

  • গাজার সীমান্ত পরিবর্তনের ঘোর বিরোধী জাতিসঙ্ঘ
  • গাজার নৃশংসতা অস্বীকার করায় হিলারি ক্লিনটনের কঠোর সমালোচনা
  • গাজায় ভারী বৃষ্টিতে হাজারো তাঁবু প্লাবিত
  • ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাসবিরোধী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা

হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মিশাল জানিয়েছেন, গাজা থেকে ইসরাইলের ওপর ভবিষ্যৎ হামলা কমানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তিনি আরো বলেন, অস্ত্র ত্যাগ করা মানে হবে দলের আত্মা কেড়ে নেয়া। গতকাল বুধবার আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিশাল বলেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনার গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও হামাস তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

হামাস জানিয়েছে, ইসরাইল বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করায় যুদ্ধবিরতি এগোতে পারছে না। অক্টোবরের ১০ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৮ বার লঙ্ঘন হয়েছে। মিশাল আরো বলেন, গাজার জন্য কোনো অ-ফিলিস্তিনি প্রশাসন গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে জল্পনা থাকলেও হামাস তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বাতিল হয়েছে। আরব ও মুসলিম দেশগুলো তার বিরোধিতা করেছে। হামাস আগেই ব্লেয়ারের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেছিল। তাদের নেতা হুসাম বদরান তাকে অপাঙ্ক্তেয় ব্যক্তি’ ও ‘অশুভ সঙ্কেত’ বলে অভিহিত করেছিলেন। অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যদিও ইসরাইল বারবার লঙ্ঘন করেছে, তবুও চুক্তি মোটামুটি কার্যকর রয়েছে। ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩৭৭ জন নিহত হয়েছে।

দোহা ফোরামে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখন সঙ্কটময় অবস্থায় রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আরো উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর হামাসের হামলার সময় দক্ষিণ ইসরাইল থেকে যাদের বন্দী করে নেয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে জীবিত ও মৃত প্রায় সবাই ফেরত এসেছে। একই সাথে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পেয়েছে। তবে অনেক ফিলিস্তিনি বন্দীর লাশে নির্যাতন, বিকৃতি ও হত্যার চিহ্ন বহন রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের শনাক্ত করতে পারেননি। হামাস জানিয়েছে, ইসরাইল প্রথম ধাপের চুক্তি পুরোপুরি মানেনি। রাফাহ সীমান্ত খোলা হয়নি, সহায়তা প্রবাহ চুক্তির তুলনায় অনেক কম, আর হামলা প্রায় প্রতিদিনই চলছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রথম ধাপ প্রায় শেষ হয়েছে। তিনি দ্বিতীয় ধাপে একই ফলাফল অর্জনের আশা প্রকাশ করেছেন এবং এ মাসের শেষে ট্রাম্পের সাথে ওয়াশিংটনে বৈঠক করবেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ধাপের জন্য জোরদার আলোচনা চলছে এবং অগ্রগতি হচ্ছে। মিশাল বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে গাজায় সহায়তা প্রবাহ বাড়ানো জরুরি। এতে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে এবং ইসরাইল পুরোপুরি গাজা থেকে সরে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছি, গাজাকে পুনরুদ্ধারে যারা সাহায্য করতে পারে তাদের প্রয়োজন।’

অস্ত্র ত্যাগ হবে মূল ইস্যু। ইসরাইল তা দাবি করছে, তবে মিশাল বলেছেন, অস্ত্র ছাড়লে তা হবে দলের আত্মা কেড়ে নেয়ার মতো। হামাস জানিয়েছে, তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে পারে কেবল একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের কাছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, তার দেশ গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যোগ দিতে পারে। তবে তিনি বলেছেন, প্রথম ধাপে নিরস্ত্রীকরণ হবে না। ইসরাইল জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণই হবে প্রধান লক্ষ্য। তারা গাজায় তুর্কি সেনাদের উপস্থিতির বিরোধিতা করেছে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদুল আতি বলেছেন, গাজায় দ্রুত আন্তর্জাতিক বাহিনী পাঠানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘একদিকে ইসরাইল প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে, অন্যদিকে দায় চাপাচ্ছে। তাই পর্যবেক্ষক দরকার।’

গাজায় নৃশংসতা অস্বীকার করায় হিলারি ক্লিনটনের কঠোর সমালোচনা : গাজায় ইসরাইলি নৃশংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা লেমকিন ইনস্টিটিউট। মঙ্গলবার সংস্থাটি হিলারির এই মন্তব্যকে ‘সরাসরি গণহত্যা অস্বীকার’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে ইসরাইল হায়োম সামিটে হিলারি মন্তব্য করেছিলেন যে, ইসরাইল ‘সবচেয়ে খারাপ জনসংযোগের (পিআর) ভুক্তভোগী’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তরুণরা টিকটকের ‘অপপ্রচারে’ প্রভাবিত হচ্ছে। লেমকিন ইনস্টিটিউট জানায়, হিলারির এই দাবি গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তরুণরা বোকা বা অন্ধ বিশ্বাসী নয়। তারা কেবল গণহত্যাকে প্রত্যাখ্যান করছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারেন।’ এতে আরো বলা হয়, আমেরিকানরা গত দুই বছর ধরে সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ‘গণহত্যা’ প্রত্যক্ষ করছে। ইনস্টিটিউট উল্লেখ করে, একসময়ের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে ‘কোনো কথাই বলেননি’। এর পরিবর্তে তিনি কেবল ‘আখ্যান’ বা ন্যারেটিভ এবং অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার অসুবিধার ওপরই জোর দিয়েছেন। সংস্থাটি মন্তব্য করে, ‘মনে হচ্ছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আসলে বোঝাতে চেয়েছেন যে, সত্য ধামাচাপা দিতে টিকটক যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখছে না।’ ফিলিস্তিনপন্থী কনটেন্ট আটকে দেয়ার অভিযোগ এবং ঘৃণা ছড়ানো রোধে টিকটকের একজন সাবেক ইসরাইলি সেনা প্রশিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তারা হিলারির বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত হাস্যকর’ বলে অভিহিত করে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকরা গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার আইনি সংজ্ঞার আওতাভুক্ত বলে বর্ণনা করেছেন। সংস্থাটি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এসব খবর পড়ার পরামর্শ দেয়। লেমকিন ইনস্টিটিউট জানায়, জনসংযোগের ওপর হিলারির অতিরিক্ত গুরুত্বারোপ প্রমাণ করে যে তার বাস্তব জ্ঞানের অভাব রয়েছে। কোনো জনসংযোগ প্রচেষ্টাই গাজার প্রামাণিক তথ্য লুকাতে পারবে না। হিলারির মন্তব্যকে গণহত্যা অস্বীকার হিসেবে চিহ্নিত করে ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রতিবাদ করায় তরুণ প্রজন্মের প্রশংসাও করেছে সংস্থাটি।

গাজার সীমান্ত পরিবর্তনের ঘোর বিরোধী জাতিসঙ্ঘ : গাজা-ইসরাইল সীমান্ত পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসঙ্ঘ। ইসরাইলি সামরিক প্রধানের এক ঘোষণার পর মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জাতিসঙ্ঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। তিনি বলেন, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার মূলনীতির পরিপন্থী।

ডুজারিক স্পষ্ট করে জানান, ‘জাতিসঙ্ঘ গাজা ও ইসরাইলের সীমান্ত পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগের ঘোর বিরোধী। জাতিসঙ্ঘ যখন গাজা নিয়ে কথা বলে, তখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল সীমান্তকেই বোঝায়, ইসরাইল ঘোষিত নতুন ‘ইয়েলো লাইন’কে নয়।’ জাতিসঙ্ঘের এই বক্তব্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এয়াল জামিরের এক ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। তিনি বলেছেন, ‘ইয়েলো লাইন এখন থেকে গাজার নতুন সীমান্ত।’ তার ঘোষণায় আরো উল্লেখ করা হয় যে, গাজা উপত্যকার বিশাল এলাকার ওপর ইসরাইল কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিজেদের দখলে রেখেছে। বিতর্কিত এই ‘ইয়েলো লাইন’-এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের জন্য অনুমোদিত এলাকা এবং ইসরাইলি সেনা মোতায়েন করা অঞ্চলকে আলাদা করা হয়েছে।

গাজায় ভারী বৃষ্টিতে হাজারো তাঁবু প্লাবিত : বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে গাজা উপত্যকায় আশ্রয়হীন মানুষের হাজারো তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় তাঁবুগুলো পানিতে ডুবে গেছে। আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, কিছু তাঁবুর ভেতরে পানির উচ্চতা ৪০ সেন্টিমিটারেরও বেশি হয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান আবহাওয়ার কারণে আসন্ন মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত গাজায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। বাসাল জানিয়েছেন, গাজায় প্রবেশ করা সহায়তা এখনো ২৪ লাখ মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তিনি তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছিল, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত একটি মেরু নিম্নচাপ গাজায় প্রভাব ফেলবে। এতে লাখো বাস্তুচ্যুত পরিবার হুমকির মুখে পড়বে। গণমাধ্যম কার্যালয়ের আগের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের দুই বছরের হামলায় অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার পর গাজায় অন্তত তিন লাখ তাঁবু ও প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর প্রয়োজন।

ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাসবিরোধী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা : ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামাসবিরোধী গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, তারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর এসব গোষ্ঠীতে নতুন সদস্য যোগ দিয়েছে। রয়টার্স জানায়, এ গোষ্ঠীগুলোর উত্থান হামাসের ওপর চাপ বাড়িয়েছে এবং বিভক্ত গাজায় স্থিতিশীলতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জটিল করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জুনে স্বীকার করেছিলেন, ইসরাইল হামাসবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করেছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গত সপ্তাহে দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায় নিহত হন ইয়াসের আবু শাবাব, যিনি হামাসবিরোধী শক্তি গড়ে তোলার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার সংগঠন ‘পপুলার ফোর্সেস’ জানিয়েছে, তিনি পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার সময় নিহত হন। তার সহযোগী গাসান দুহিন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং একই পথে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। হামাস, এ গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগী বা বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ ফিলিস্তিনিরাও এ মতের সাথে একমত। যুদ্ধবিরতির পর হামাস তাদের নিয়ন্ত্রণ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, এতে বহু মানুষ নিহত হয়। গাজার প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাস করে। হামাস এখনো হাজারো যোদ্ধার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ইসরাইল গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যেখানে হামাসবিরোধীরা সক্রিয়।