ইইউ পর্যবেক্ষকরা ছড়িয়ে পড়েছেন ৬৪ জেলায়
কাজ করবেন গ্রামাঞ্চলেও
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা গতকাল থেকে সারা দেশে অর্থাৎ ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই পর্যবেক্ষকরা দুইজনের একেকটি দলে ভাগ হয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও তরুণ কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। তারা শুধু বড় শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
গত ২৯ ডিসেম্বর ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের ১১ জন বিশ্লেষকের সমন্বয়ে গঠিত কোর টিম বা মূল দলটি ঢাকা পৌঁছেছে। গতকাল ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত হলো। আরো ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষককে নির্বাচনের ঠিক আগে কৌশলগত স্থানে মোতায়েন করা হবে। পূর্ণ সক্ষমতার এই মিশনে ইইউর ২৭টি দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম শুরু আগে গতকাল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের উপ-প্রধান ইনতা লাসে বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামগ্রিক চিত্রটি সামষ্টিকভাবে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আমাদের মূল্যায়ন ও সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নয়নে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আমাদের মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ ও অন্তর্দৃষ্টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। মিশন মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইনতা লাসে বলেন, আমরা সবাই জানি বিশ্বের কোথাও শতভাগ নিখুঁত নির্বাচন হয় না। নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে দিন। সেই সাথে একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করুন।
মিশন কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ইইউ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক মিশন পাঠিয়েছে। এ মিশনের প্রধান লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস। পর্যবেক্ষকদের মাঠপর্যায়ে মোতায়েনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নির্বাচনের দুই দিন পর, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। আর নির্বাচনের দুই মাস পর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হবে। এতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের ভূমিকা সহায়ক হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর নিরপেক্ষতার প্রতি আমরা নজর রাখব। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এ মুহূর্তের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করাই তাদের মূলনীতি। ২০০৫ সালে জাতিসঙ্ঘ অনুমোদিত ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’ অনুযায়ী ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।