বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেন
সূচনার লেখাপড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার
Printed Edition
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
অভাব-অনটনের মধ্যেও মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের সোনাখাড়া গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী সূচনা রানী। তবে পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের কারণে ভর্তির খরচ জোগাড় ও উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার পরিবারের সদস্যদের।
সূচনা রানী গ্রামপুলিশ সত্য কুমার রবিদাস ও গৃহিণী শ্যামলী রানীর বড় মেয়ে। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনিই বড়। ছোট ভাই আকাশ কুমার রবিদাস সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে বর্তমানে নিমগাছী বাজারের একটি সেলুনে কাজ করে পরিবারের খরচে সহায়তা করছে।
ছোটবেলা থেকেই মেধাবী সূচনা নিমগাছী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন এবং মেধাবৃত্তি অর্জন করেন। পরে নিমগাছী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে জিপিএ ৫ লাভ করেন। তবে আর্থিক সঙ্কটের কারণে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পেরে নিমগাছী ডিগ্রি কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারে সহায়তার জন্য সেলাইয়ের কাজও করেন তিনি।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিমগাছী ডিগ্রি কলেজের ১০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র জিপিএ ৫ অর্জন করেন সূচনা রানী। এর পর বাড়িতে বসে অনলাইনের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।
সূচনা রানী বলেন, অভাবের কারণে কখনো কোচিং করতে পারিনি। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই ।
সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তার উচ্চশিক্ষার পথ সহজ হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী জানান, সূচনা রানীর পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।