বেড়ায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের ইঞ্জিন উধাও : সেবাবঞ্চিত চরবাসী
Printed Edition
শফিউল আযম বেড়া (পাবনা)
পাবনার বেড়া উপজেলার পদ্মা-যমুনা বেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় এক যুগ আগে সরবরাহ করা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এখন অচল অবস্থায় পড়ে আছে। অবহেলা ও তদারকির অভাবে এর ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ হারিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে একটি ওয়ান বেড ক্লিনিক বোট (ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স) বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেয়া হয়। কিন্তু সংরক্ষণ ও পরিচালনার ব্যবস্থা না থাকায় সেটি নদীতে ফেলে রাখা হয়। পরে অরক্ষিত অবস্থায় ডুবে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই পরিকল্পনার অভাব, জনবল সঙ্কট ও তদারকির ঘাটতিতে অ্যাম্বুলেন্সটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং ইঞ্জিন চুরি হয়েছে কি না সে বিষয়েও নিশ্চিত নন সংশ্লিষ্টরা।
বেড়া উপজেলার প্রায় ২৫টি চর নদীপথে বিচ্ছিন্ন। বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নৌকা বা ট্রলারে করে হাসপাতালে নিতে হয়, যা অনেক সময় জীবন ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ বাস্তবতায় দ্রুত রোগী পরিবহনের লক্ষ্যে অ্যাম্বুলেন্সটি সরবরাহ করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি।
চরনাগদা ও চরসাঁড়াশিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি চালু থাকলে গর্ভবতী নারী, শিশু ও গুরুতর রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় এখন তা অকার্যকর।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অতীতে চালক নিয়োগ ও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা যায়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তাহমিনা ইয়াসমিন জানান, বিষয়টি পুরনো হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত নতুন করে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেয়া হোক, যাতে চরাঞ্চলের মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।