সচল হচ্ছে বরিশাল নগরীর দু’টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট
Printed Edition
আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল
দীর্ঘ এক দশক অবহেলায় পড়ে থাকার পর অবশেষে সচল হতে যাচ্ছে বরিশাল নগরীর দু’টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। সুপেয় পানির দীর্ঘ দিনের সঙ্কট নিরসনে ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ দু’টি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন, যা এখন বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে কীর্তনখোলা নদীর তীরে রূপাতলী ও আমানগঞ্জ এলাকায় প্লান্ট দু’টি স্থাপন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন এ সংস্থাই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে এবং একই বছর তা বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় সময়ের সাথে সাথে যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোয় মরিচা ধরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরবর্তী সময়ে সরকার পুনরায় আট কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে সংস্কার কাজ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রূপাতলী প্লান্টটি চলতি মাসেই চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আমানগঞ্জ প্লান্টটি আগামী মে মাসে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় সাত কোটি ২০ লাখ লিটার হলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র তিন কোটি ২০ লাখ লিটার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্লান্ট দু’টি পুরোপুরি সচল হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন কোটি ২০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরীতে ভূগর্ভের পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এক দশক আগে যেখানে ২০ ফুট গভীরতায় পানি পাওয়া যেত, বর্তমানে তা ৪০ থেকে ৫২ ফুটে নেমে গেছে। ফলে অনেক টিউবওয়েল অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রেজাউল বারী বলেন, সরকারের বিশেষ বরাদ্দে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্লান্ট দু’টি চালু হলে গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং নগরবাসী নিরাপদ পানির সুবিধা পাবে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, তিনি সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। রূপাতলী প্লান্টের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং অপরটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।