বড় হারে শুরু নাসরিন অ্যাকাডেমির

এপিএফ ৪-০ নাসরিন অ্যাকাডেমি

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এই নেপালের দশরথ স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের টানা দুই সাফ শিরোপা জয়। নেপাল থেকেই নারী ফুটবলে বাংলাদেশের প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাদ অর্জন করা। গত বছর এই নেপালেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী সাফে ট্রফি নিয়ে উল্লাস করেছিল বাংলাদেশ দল। অথচ সাফ অঞ্চলের ফুটবলপ্রেমীরা গতকাল ভিন্ন চিত্র দেখল লাল-সবুজদের আরেকটি দলকে। সর্বশেষ বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়ন দল নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি। সেই দলটিকে নিয়ে কাল ছেলেখেলায় মেতেছিল নেপালের এপিএফ ফুটবল ক্লাব। গতকাল নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে পর্দা উঠেছে প্রথম সাফ নারী ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের। এই আসরে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়েই কাঠমান্ডু যাওয়া নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির। এখন ফাইনাল তো দূরের কথা বাংলাদেশী ক্লাবটি তৃতীয় হতে পারবে কি না সন্দেহ। কাল তাদের ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নেপালের লিগ চ্যাম্পিয়ন দল এপিএফ এফসি। কাল অন্য ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে পাকিস্তানের করাচি সিটি ও ভুটানের ট্রান্সপোর্ট ইউনাইটেড। ৮ ডিসেম্বর নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির দ্বিতীয় ম্যাচ করাচি সিটির বিপক্ষে।

শক্তিশালী দল নিয়ে নেপাল যেতে পারেনি নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি। যাদের নিয়ে দলটি গত লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ক্লাবটি, সেই দলের অধিকাংশ ফুটবলারই নেই। সাবিনা, মাছুরা, বড় শামসুন্নাহাররা খেলতেই চেয়েছিলেন। কিন্তু নানা জটিলতায় তাদের যাওয়া হয়নি নেপালে। সাবিনাদের বাদ দিয়েই যেতে হয়েছে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে। দল খেলতে গেছে অনূর্ধ্ব-২০, অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলারদের নিয়ে। সাথে সিনিয়র বলতে অধিনায়ক সানজিদা আক্তার। অন্য দিকে স্বাগতিক নেপালি ক্লাব পূর্ণশক্তি নিয়েই মাঠে নামে। ফলে উঠতি বয়সের নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির ফুটবলাররা কুলিয়ে উঠতে পারেননি।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে এখন সবাই শিরোপাই দেখতে চায়। নাসরিনের কাছেও ছিল সেই প্রত্যাশা। কিন্তু জাতীয় দলের কোচ পিটার জেমস বাটলারের বাড়াবাড়ির কারণে নাসরিন চ্যাম্পিয়ন ফাইটিং দল গড়তে পারেনি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রথমে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দিয়েই দল পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু মার্চের এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির কথা বলে কোচ কোনো খেলোয়াড়কে ছাড়তে রাজি হননি। পরে নাসরিন স্পোর্টস জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাবিনা, মাছুরা, সুমাইয়া, কৃষ্ণারানীদের নিয়ে দল গঠনের উদ্যোগ নেয়। সাবিনাও রাজি হয়ে নিজের মতো করে দল সাজান। সেই দলে ছিলেন মনিকা চামকা, মারিয়া মান্ডা, বড় শামসুন্নাহাররা। এতে বেঁকে বসেন বাটলার। তার সোজা কথা, সাবিনাদের সাথে একত্রে খেলতে পারবেন না মনিকা, মারিয়ারা। এরপর বাটলার একটি টিম বানান এই সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য। যে দলে ছিলেন না সাবিনারা। ছিলেন মনিকা, মারিয়ারা। জানা গেছে, কোচের এই সিদ্ধান্তের পর উল্টো সুর তোলেন মনিকা, মারিয়ারা। তারা সোজা জানিয়ে দেন, সাবিনারা না খেললে তারাও খেলবে না। আবার সাবিনা জানিয়ে দেন মনিকা-মারিয়াদের না পেলে তিনিও খেলবেন না। শেষ পর্যন্ত সাবিনা, মনিকা, মারিয়া কারোই যাওয়া হয়নি। উঠতি মেঘলা, অর্পিতা, প্রীতি, তৃষ্ণারানী, মা মনিদের নিয়েই নেপাল যাওয়া নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির এবং প্রথম ম্যাচেই হালি গোলে হার। সূত্র মতে, সাবিনারা খেলতে রাজি না বার্জারও রাজি হয়নি নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে স্পন্সর করতে। এর দায় অবশ্যই কোচ বাটলারের।

কাল দশরথ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ১-০তে এগিয়ে যাওয়া নেপালি ক্লাবটি বিরতির পর আরো তিন গোল করে। ৩০ ও ৮০ মিনিটে রেশমী কুমারী দুই গোল করেন। অপর দুই গোল মিনা দুবের ( ৭০ ও ৯১ মি.)।