কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের শহর দখলে ভেঙে গেল ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি

Printed Edition

বিবিসি

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহীদের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর পতনের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত তথাকথিত ‘ঐতিহাসিক’ শান্তিচুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে। কয়েক মাস আগে এই চুক্তিকে আফ্রিকার দীর্ঘস্থায়ী সঙ্ঘাত নিরসনে বড় পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছিল।

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে এম২৩ বিদ্রোহীরা হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর দখল করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরটি দখলের পর হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং মানবিক সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে। বিদ্রোহীরা বলছে, সরকার শান্তিচুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে, তাই তারা পুনরায় অস্ত্র হাতে নিয়েছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কঙ্গো সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হয়। এতে যুদ্ধবিরতি, বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। আন্তর্জাতিক মহল চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছিল। কিন্তু বাস্তবে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতা দেখা দেয়।

কঙ্গো সরকার দাবি করছে, তারা শান্তিচুক্তির শর্ত মানতে চেষ্টা করেছে। তবে বিদ্রোহীরা নতুন করে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করেছে। সরকার বলছে, তারা শহর পুনর্দখলের জন্য সেনা মোতায়েন করেছে।

জাতিসঙ্ঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, বিদ্রোহীদের শহর দখল শান্তিচুক্তির প্রতি আস্থা নষ্ট করেছে এবং নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং খাদ্য ও চিকিৎসাসঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তিচুক্তি রাজনৈতিকভাবে বড় সাফল্য হিসেবে প্রচারিত হলেও বাস্তবে তা ছিল ভঙ্গুর। বিদ্রোহীদের শহর দখল প্রমাণ করছে, কঙ্গোর সঙ্ঘাত সমাধানে শুধু কূটনৈতিক চুক্তি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা।