হলান্ডের চমক নাকি এমবাপ্পের আধিপত্য

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয় করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে চলমান আসরেও দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে ছুটে চলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। দুই ম্যাচে ইতোমধ্যে করেছেন ৪ গোল। অন্য দিকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। দলটির সেরা তারকা আর্লিং হলান্ড। বিশ্বকাপে না খেললেও কাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাঠ দাবড়িয়ে ছুটেছেন এই নরওয়েজিয়ান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এসে এমবাপ্পের সমান ৪ গোল নিয়ে দারুণ ছন্দেই আছেন হলান্ড। আজ ফুটবল ভক্তদের সামনে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণের লড়াইয়ে নামছেন দুই সেরা তারকা। ‘আই’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে নরওয়ের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। গ্রুপসেরা হওয়ার এই মহারণ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে।

নরওয়ে গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে এবং ইরাকের বিপে ৪-১ গোলের জয়ে ইতোমধ্যে রাউন্ড অফ ৩২-এর যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে। ইরাককে ৩-০ ও সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউটে পৌঁছেছে ফ্রান্সও। বোস্টনে দুই দলই ৬ পয়েন্ট নিয়ে সমান অবস্থানে থেকে মুখোমুখি হবে গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে। তবে ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষস্থানে রয়েছে। ফলে এই ম্যাচ জয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠায় এখন লক্ষ্য স্টালে সোলবাকেন এবং দিদিয়ের দেশমের দলের।

দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখাচ্ছে নরওয়ে। প্রথম দুই ম্যাচে নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছেন হলান্ড। তিনি ইতোমধ্যে চার গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অন্যতম শীর্ষ দাবিদার। তার সাথে মিডফিল্ডে আছেন মার্টিন ওডেগার্ডের মতো সৃজনশীল ফুটবলার। যা নরওয়ের আক্রমণভাগকে আরো বিপজ্জনক করে তুলেছে।

নরওয়ের পরিকল্পনা সম্ভবত হবে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে খেলা। হলান্ডের শক্তি, গতি ও ফিনিশিং দতা ফ্রান্সের ডিফেন্ডারদের জন্য বড় পরীা হয়ে দাঁড়াবে। ওডেগার্ড যদি মাঝমাঠে জায়গা পান, তাহলে নরওয়ে ফরাসি রণে বারবার আঘাত হানতে পারে। ফ্রান্সকে আজকের ম্যাচে হারাতে হলে জ্বলে উঠতে হবে ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড হলান্ডকে। তবে তিনি এই ফলাফল নিয়ে চিন্তিত নন। কারণ তার দল টুর্নামেন্টের আগে নকআউট পর্বে পৌঁছানোর যে ল্য নির্ধারণ করেছিল, তা ইতোমধ্যেই অর্জন করে ফেলেছে। নরওয়ে অনেক বছর পর বিশ্বকাপে এমন অবস্থানে পৌঁছেছে, ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। দেশজুড়ে দলটির সাফল্য নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

ফক্স স্পোর্টসকে হলান্ড বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নই। আমরা পরের পর্বে পৌঁছে গেছি, আমরা উত্তীর্ণ হতে পেরেছি, যা অবিশ্বাস্য।’

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে প্রমাণ করেছে ফ্রান্স। বিশেষ করে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন দলটির ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপে তিনি দু’টি গোল করেন এবং সতীর্থদের জন্য সুযোগও তৈরি করেন। এ ছাড়া উসমান দেম্বেলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে আরো শক্তিশালী করেছে। ফ্রান্স সাধারণত বলের দখল ধরে রেখে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তুলতে পছন্দ করে। এমবাপ্পের গতি ও দেম্বেলের ড্রিবলিং প্রতিপ রণকে চাপে রাখবে। তবে তাদের রণভাগে আগের ম্যাচগুলোতে দেখা গেছে কিছু দুর্বলতা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসিক চাপ। ফ্রান্স সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে এবং তাদের স্কোয়াডে অভিজ্ঞতার ঘাটতি নেই।

সেই ১৯২৩ সাল থেকে নরওয়ে বনাম ফ্রান্সের লড়াইয়ের ইতিহাস। প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রীতিম্যাচে দুই দেশ প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল। যেখানে ভাইকিংসরা ২-০ গোলে জয়লাভ করে। তবে বিশ্বকাপ ও ইউরোপীয় বাছাই পর্বে তাদের পরবর্তী ছয়টি সাাতের মধ্যে ফ্রান্স পাঁচটিতেই জয়লাভ করে। মুখোমুখি লড়াইয়ের সামগ্রিক রেকর্ডে ব্লুসরা ১৫টি সাাতে সাতটি জয় নিয়ে এগিয়ে। নরওয়ে চারটি জয় এবং চারটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ লড়াইটি হয়েছিল ২০১৪ সালে। সেই ম্যাচে অলিভার জিরুডের জোড়া গোল এবং পল পগবা ও লোইক রেমির একটি করে গোলে নরওয়েকে ৪-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছিল ফ্রান্স। তবে কোনো বড় টুর্নামেন্টে এটিই প্রথম ম্যাচে দুই দলের।