২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদের দাবি চসিক মেয়র শাহাদাতের
নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ নিয়ে ধূম্রজাল
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন দাবি করেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে গঠিত পরিষদের মেয়াদ গতকাল ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তার নেতৃত্বাধীন পরিষদের (মেয়র ও কাউন্সিলর) প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মেয়রদের মতো রেজাউল করিম চৌধুরীকেও অপসারণ করা হয়। স্থানীয় সরকার আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, করপোরেশনের মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর। সে হিসেবে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি।
এ দিকে, ২০২১ সালের ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ডা: শাহাদাত হোসেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলে তিনি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শপথ নেন এবং ৫ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শপথের পর চট্টগ্রামে এসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, দায়িত্ব পালনের জন্য সময় পাবেন মাত্র দেড় বছর। তবে গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি ভিন্ন দাবি করেন।
মেয়র শাহাদাত বলেন, একটি স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হয়েছে। রেজাউল করিম চৌধুরীর পুরো মেয়াদকাল আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
ফলে আমি যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন থেকে আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বরের আগে আমার মেয়াদ শেষ হবে না।
তিনি আরো বলেন, সরকার তাকে যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়েছে, সেটির মেয়াদও পাঁচ বছর। তাই পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি কোনো প্রশাসক নই, নির্বাচিত মেয়র। আদালতের রায়ে আমাকে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে। কোর্ট অর্ডার দিয়েছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। চাইলে আমি ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকতে পারব।
তবে আমি নির্বাচন চাই। এখন নির্বাচন আয়োজন করা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে।
সারা দেশে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হওয়া দরকার।
ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় জনগণ প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না। নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের কথাও তুলে ধরেন মেয়র।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে প্রায় ২২ লাখ ভোটার আছেন। আমি জানতে চাই, আমাকে দুই লাখ মানুষ চান, না ১০ লাখ মানুষ চান। পুরো রাজনীতিতে আমার প্রাপ্তি কী- তা ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হোক। তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন চাই।