আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলা
তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ যুক্তিতর্কের অপেক্ষায় ট্রাইব্যুনাল
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
- মানবতাবিরোধী অপরাধ
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাভারের আশুলিয়ায় ছয় তরুণের লাশ ভ্যানে তুলে পুড়িয়ে দেয়ার লোমহর্ষক ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) জানে আলম খানের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে মামলাটি এখন চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের ধাপে উপনীত হলো।
গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে দ্বিতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতের কার্যক্রম এদিন বেলা সাড়ে ১১টার পর জেরা শুরু হয়। ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফীর পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান। এর আগে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো: আমির হোসেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সাইমুম রেজা তালুকদারসহ অন্যরা।
গত ২ ডিসেম্বর ২৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম। ১৪ ডিসেম্বর তার জেরা শুরু হয় এবং গতকাল রোববার তা সম্পন্ন হলো। এ পর্যন্ত মোট ২২ কার্যদিবসে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত ছয় তরুণের লাশ একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নৃশংসতার চরম পর্যায়ে একজন ভিকটিম তখনো জীবিত ছিলেন, তাকেও জীবন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। এ ছাড়া এর আগের দিন আরো একজন নিহত হন। এই মোট সাতজনকে হত্যার ঘটনায় গত ১১ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।
আসামিদের অবস্থা এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে আটজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহিল কাফী ও মো: শাহিদুল ইসলাম; পরিদর্শক আরাফাত হোসেন; এসআই মালেক ও এসআই আরাফাত উদ্দিন; এএসআই কামরুল হাসান; কনস্টেবল মুকুল; রাজসাক্ষী হওয়া এসআই শেখ আবজালুল হক।
সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ বাকি আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন। গত ২১ আগস্ট ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।
রাজসাক্ষীর জবানবন্দী মামলার অন্যতম আসামি এসআই শেখ আবজালুল হক নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। গত ২০ নভেম্বর তার জেরা সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া মামলার তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরিয়ান এসআই আনিসুর রহমানও পুনরায় জবানবন্দী দিয়েছেন।
প্রসিকিউশন এই মামলায় ৩১৩ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সাথে ৬২ জন সাক্ষী, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দু’টি পেনড্রাইভ আলামত হিসেবে জমা দিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হওয়ায় এখন উভয় পক্ষ আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন, যার পরেই আসবে বহুল প্রতীক্ষিত রায়।