মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদ

মৃত্যুদণ্ড মামলা খারিজ পুনর্বহাল ও পদোন্নতি দাবি

Printed Edition
3rd-6
জাতীয় প্রেস ক্লাবে মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদের সংবাদ সম্মেলন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে হাইকোর্টে তিনটি মৃত্যুদণ্ড রেফারেন্স মামলা থেকে মেজর জিয়াকে বাদ দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়াও মেজর জিয়াউল হককে যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী পুনর্বহাল ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করাসহ একাধিক দাবি জানিয়েছে মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো জানানো হয়। এ সব তাদের দাবিগুলো না মানা হলে, অচিরেই ‘মার্চ ফর মেজর জিয়াউল হক’ নামে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।

মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদ জানায়, মেজর জিয়াউল হক ধারা ৪০১ এর আওতায়, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সাজানো তিনটি মামলায় তিনটি ফাঁসির দণ্ড স্থগিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। আমরা অতি দ্রুত এই তিনটি আবেদন প্রসেস করার দাবি জানাচ্ছি। মেজর জিয়াউল হকের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো তুলে নেয়ার ব্যাপারে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ব্যবস্থ গ্রহণ করতে হবে। আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জরুরি দাবি জানিয়ে বলা হয়, জঙ্গি-ন্যারেটিভ পুনর্মূল্যায়ন ও তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হোক। এ কমিশনের মাধ্যমে সকল জঙ্গি মামলা ও ঘটনা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে। এই কমিশনে মানবাধিকার সংগঠন, সিভিল সোসাইটি, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এ কমিশনের মাধ্যমে ২০১৩ থেকে ২০২৪ সময়কার সকল জঙ্গি বিরোধী অভিযান পুনরালোচনা করা হোক। সাজানো অপারেশন ও মামলার শিকার নির্দোষ ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা হোক। সাজানো ঘটনাগুলোর সাথে পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। এই কমিশন গঠন করলে পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের পরিচালিত ‘স্টেজড অ্যান্টি-টেরর অপারেশন’ উন্মোচন করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মেজর জিয়া মুক্তি পরিষদ দাবি করে মেজর জিয়াউল হকের সাথে যা ঘটেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি পুনরাবৃত্ত, পূর্বপরিকল্পিত, পূর্বনির্ধারিত প্যাটার্নের অংশ। বিগত ফ্যাসিস্ট রেজিমের সময় বিচার ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি এবং এই বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে মেজর জিয়াউল হকের নামে ডজন খানেক মামলা দেয়া হয়েছে এবং তিনটি ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে! তার উপর যে অন্যায় করা হয়েছে, তা একই প্যাটার্ন, একই স্ক্রিপ্ট, একই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মেজর জিয়াসহ দেশপ্রেমিক অফিসারদের অন্তর্দহন শুরু হয় ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সেই ভয়াবহ ঐতিহাসিক মুহূর্ত থেকে। পিলখানার নিহতরা ছিলেন তাদেরই সিনিয়র বা জুনিয়র কিংবা কোর্সমেট। কিছুদিনের মধ্যে তারা বুঝে গেলেন যে, এর সাথে পুরো সিস্টেম জড়িত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ভারতীয় কমান্ডো। সাভার থেকে লগ এরিয়ায় যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। দেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে ভারতীয় র কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। দুই রাত আটক রাখার পর নিজ বুদ্ধিমত্তায় তিনি পালাতে সক্ষম হন। পরে সাজানো ক্যু-এর পরও তাকে আটক করতে না পেরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার বিরুদ্ধে লেগে যায়। তারা তাকে বানিয়ে দেয় ‘জঙ্গি কার্ডের পোস্টার বয়’! তাকে কাল্পনিকভাবে একাধিক সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা বানানো শুরু হয়।