তত্ত্বাবধায়ক সময়ের চেয়ে এখনকার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অনেক খারাপ : ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
- বিআইডিএসের বার্ষিক সম্মেলন শুরু
- ‘রাজনৈতিক চাহিদা থাকলে বিধিবিধান দিয়ে অবৈধ আয় বন্ধ করা যাবে না’
একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। সেটি ছিল ১৯৯৬ সালের ঘটনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিশিষ্ট্য এই এই অর্থনীতিবিদ এখন মনে করেন, তখনকার দিনে দেশের প্রশাসন ছিল ভালো। তিনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতার চেয়ে এখনকার (অন্তর্বর্তী সরকার) দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা অনেক খারাপ।’ এর কারণও তিনি উল্লেখ করেছেন।
তার ভাষায়, তখন প্রশাসনিক কাজ করার ক্ষেত্রে সচিবরা সব কাজ করে ফেলত। কোনো কিছু দেখিয়ে দিতে হতো না। আমার সময়ে আকবর আলী খান, ড. সা’দত হুসাইনরা সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিল। তারা অনেক দক্ষ ছিল। এখন কাজ করার অভিজ্ঞতা আগের চেয়ে অনেক খারাপ। এখন সব কিছু নিজেকে পড়ে দেখতে হয়, পরীক্ষা করতে হয়।
গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় বিআইডিএস মহাপরিচালক (ডিজি) ড. এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ড. ওয়াহিদ বলেন, রাজনৈতিক চাহিদা থাকলে বিধিবিধান দিয়ে অবৈধ আয় বন্ধ করা যাবে না। অবৈধ আয় কমাতে গেলে দিন শেষে তা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। তা না হলে একটি উৎস বন্ধ করলে আরেকটি উৎস চালু হয়ে যায়।
মূল প্রবন্ধে ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘অশুভ সংস্কৃতি গড়ে উঠলে শুধু প্রশাসনিক সংস্কার দিয়ে সমাধান হবে না। ভারতে ঘুষ নেয়ার মতো দেয়াটা অপরাধ হলেও আমাদের দেশে দেয়াটা অপরাধ বলে মনে করা হয় না।’
দেশে গণতান্ত্রিক উন্নয়নের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, শুধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটতে পারে না। এখানে রাজনৈতিক অর্থনীতি করতে হবে। রাজনীতি যদি জনকল্যাণমুখী না হয়ে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য হয়, তাহলে যুবসমাজ ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতিকে বেছে নেবে। এ ছাড়া সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী একটা সুবিধাভোগী বলয় তৈরি করে জনকল্যাণমুখী নীতি নির্ধারণে বাঁধা তৈরি করবে।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া। এক, কার্যকর জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটানো। দুই, সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে এবং সর্বশেষ গুণগত উন্নয়ন, যা ন্যায্য সমাজ, বৈষম্য ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজব্যবস্থা গঠনে ভূমিকা রাখবে। তবে এখন সীমিত প্রত্যাশা হলো কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। দুঃখজনক বিষয় হলো, স্বাধীনতার এতদিন পর কার্যকর বন্দোবস্ত সীমিত হওয়াটা দুঃখজনক। তবুও নতুন দেশে টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের প্রচেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গুণগত মান সম্পর্কে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আগে বিবিএসের পরিসংখ্যান মন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে করতে হতো, ফলে নানা ধরনের সন্দেহ আছে। জিডিপি ভালো হলেই জনকল্যাণ হবে, এমন কোনো কথা নেই। বিবিএসের সংস্কার নিয়ে আমরা ভাবছি। তাদের স্বাধীন করলেই কি সব সমস্যার সমাধান হবে? বিবিএসের স্বাধীনতা থেকেও তাদের তথ্যের স্বচ্ছতা জরুরি।
ড. এ কে এনামুল হক জানান, দুই দিনের গবেষণা সম্মেলনে প্রায় অর্ধশতাধিক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো উঠে আসবে। আমাদের যুব বেকার বাড়ছে, দারিদ্র্য বাড়ছে এবং স্বাস্থ্যখাতে নানা সঙ্কট বিরাজমান। এসব বিষয় উঠে আসবে আলোচনার মাধ্যমে।
উদ্বোধনী অধিবেশনের পর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আরেক অধিবেশনে চারটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডল।