জানাজাপূর্ব বক্তব্যে হাদির ভাই

সর্বকনিষ্ঠ ভাইয়ের লাশটা আজ আমার কাঁধে, এ শোক কেমনে সইব

Printed Edition

হারুন ইসলাম

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার জনসমুদ্রের মাঝখানে গতকাল সবুজ কাপড়ে মোড়া একটি কফিন। ওই কফিনে শুয়ে আছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শহীদ শরিফ ওসমান হাদি।

এ দিন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রকাশ্যে বিচার দেখতে চান তার বড়ভাই ও জানাজার ইমাম আবু বকর সিদ্দিক। শনিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার আগ মুহূর্তে দেয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আজকে হাদির সন্তানের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। আজকে আমার মা প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছে, জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। আমার ভাই-বোন শোকে পাগল হয়ে যাচ্ছে। আমরা ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল শরিফ ওসমান হাদি। আজকে তার লাশ আমার কাঁধে বহন করতে হচ্ছে, এ শোক কেমনে সইব।

হাদি হত্যার বিচার চেয়ে তিনি বলেন, দিনদুপুরে গুলি করে খুনি যদি পার পেয়ে যায়, এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই। সাত-আট দিন হয়ে গেল, এখনো পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারলাম না। এ দুঃখে কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে।

হাদি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন মামলার আসামি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন, এমন তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি বর্ডার ক্রস হয়ে যায়, পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টার মধ্যে তারা কেমন করে গেল? এ প্রশ্ন জাতির কাছে রেখে গেলাম।

পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো চাওয়া-পাওয়ার কথা নেই উল্লেখ করে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে। তার শহীদি তামান্না ছিল। হয়তো আল্লাহ তায়ালা তাকে শহীদি মৃত্যু নসিব করেছেন; কিন্তু আপনাদের কাছে আমি এ ঋণ কখনো ছাড়ব না- আমার ভাই শরিফ ওসমান হাদির বিচার যেন প্রকাশ্যে এ বাংলার জমিনে দেখতে পারি। বক্তব্যের শেষ দিকে আবু বকর সিদ্দিক তার ভাইয়ের জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। তৌহিদী জনতার এ বাংলাদেশকে যেন আমরা রক্ষা করতে পারি।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনে ভোটের আগাম প্রচারে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। তিনি ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তিন দিন পর সেখানেই তার মৃত্যুর খবর আসে।