দখল-দূষণে মৃতপ্রায় চিত্রা নদী

Printed Edition
bangla-3
দু’ পাড় দখলের কারণে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে চিত্রা নদী : নয়া দিগন্ত

রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

দখল ও দূষণের কারণে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী চিত্রা নদী আজ মৃতপ্রায়। একসময় প্রমত্তা এই নদী দিন দিন সরু হয়ে গেছে, কোথাও কোথাও প্রায় সম্পূর্ণ বিলীন। নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা, বাজার, বসতবাড়ি, মার্কেট, এমনকি নদীর বুক চিড়ে নির্মিত পাকা ভবনের দৌরাত্ম্যে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

শহরের পুরাতন বাজার, বলিদাপাড়া, হেলাই, নিমতলা, নদীপাড়া ও ফয়লা এলাকায় নদীর ভূমি দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও বাড়িঘরের কারণে নদীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। কালীগঞ্জ ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকায় নদীর মাঝখানে পিলার তোলা ভবনে চলছে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা। ব্রিজের ফুটপথ ঘেঁষে বাঁশের মাচায় প্রতিদিন গোশত বিক্রি হয়। কোথাও নদী ভরাট করে পুকুর বানানো হয়েছে, কোথাও চলছে আবাদ।

১ নম্বর ইউনিয়নের সিংদহ গ্রামে নদীর ভেতর কেটে তৈরি করা হয়েছে অন্তত আটটি পুকুর, যেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাছ চাষ করছেন। নতুন ব্রিজের নিচে পুরনো ব্রিজের ধ্বংসাবশেষ থাকায় পানিপ্রবাহ আরো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর তথ্যমতে, চিত্রা নদীর কালীগঞ্জ অংশে বর্তমানে ৬২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়ে দখলবাজরা বছরের পর বছর নদীর জমি দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলেছে। বর্ষায় নদীতে কিছু পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীর বড় অংশই শুকিয়ে যায়। কোথাও বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখার কারণে স্বাভাবিক প্রবাহও বন্ধ হয়ে পড়ে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নদীতীরবর্তী বাড়িগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন সরাসরি নদীতে ফেলায় নদীটি এখন প্রায় ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। আবর্জনা ও দূষণে পানির গুণগতমান নষ্ট হয়ে মাছ উৎপাদনও কমে গেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাসান সাজ্জাদ বলেন, ‘নদী দখল ও দূষণে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যস্ত। নদী দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা ছাড়া দেশীয় মাছ ও মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন রক্ষা করা সম্ভব নয়।’ চিত্রা নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ আগেই নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। দখলদারদের তালিকাও করা হয়েছিল। এ বছরের শুরুতে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানের আশ্বাস দিলেও মাঠে নামেনি কোনো কার্যকর অভিযান।

স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দখলবাজদের প্রভাব ও প্রশাসনের উদাসীনতায় চিত্রা নদী তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। তারা অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তাদের মতে, দখলমুক্ত হলেই একসময়কার প্রমত্তা চিত্রা নদী আবারো নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে।