বরিশাল সদর আসনে জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর জামায়াতের ভোটব্যাংক

Printed Edition

আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপিপন্থী ভোটার অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে সময়ের পরিক্রমা ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই শক্ত অবস্থান এখন আর আগের মতো দৃশ্যমান নয়। স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার প্রভাব দলটির ভোটব্যাংকে ভাঙন ধরিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাহ্যিকভাবে সবাই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হলেও ভেতরে ভেতরে বিরোধ এখনো পুরোপুরি মেটেনি।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি একাধিকবার এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিকের কারণে ভোটের অঙ্কে বিএনপি আপাতত এগিয়ে থাকলেও মাঠের রাজনীতি ততটা সহজ নয়। কারণ এবার এই আসনে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি প্রার্থী দেয়নি।

বরিশাল সদর আসনে জামায়াতের বিপুল ভোটব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এবার দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী না থাকায় সেই ভোট কোথায় যাবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল মহানগরের সাবেক আমির অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল কেন্দ্রের নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের প্রতি মৌখিক সমর্থন জানানো হয়। তবে মাঠপর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতপাখার পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা: মিজানুর রহমান বলেন, জামায়াতের ভোট এখন ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে বরিশাল সদরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক কার্যকর থাকলে বিএনপি প্রার্থীই সুবিধা পাবেন।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের নিজস্ব ভোটব্যাংকও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সদর উপজেলার চরমোনাই ও জাগুয়া ইউনিয়নে হাতপাখার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার নজির রয়েছে। মসজিদ-মাদরাসাভিত্তিক আলেম সমাজের একটি বড় অংশও ইসলামী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। নারী কর্মীদের বাড়ি বাড়ি প্রচারণা বর্ধিত ও অনুন্নত এলাকাগুলোতে ভালো সাড়া ফেলছে। এসব এলাকায় বিএনপির উন্নয়ন প্রশ্ন তুলে ভোটারদের দ্বিধায় ফেলছে হাতপাখার কর্মীরা।

এ ছাড়া এই আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাসদ ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী ডা: মনীষা চক্রবর্তী। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকায় রিকশাচালক, অটোচালক ও কারখানা শ্রমিকদের বড় অংশ তার দিকে ঝুঁকছে। আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোটও তার ঝুলিতে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মই প্রতীকে তিনি ৩০ থেকে ৪০ হাজার ভোট পেতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্কে আলোচনা চলছে।

আসনটিতে লড়াই যতটা বিএনপি বনাম ইসলামী আন্দোলন, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জামায়াতের ভোটব্যাংক। এই ভোট কোন দিকে যাবে? সেই উত্তরই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে।