যানজটে নাকাল সৈয়দপুর, ফুটপাথ দখল করে দোকানের পসরা
Printed Edition
মো: জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাথ দখল করে দোকানিদের মালামাল সাজিয়ে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও ক্রেতারা। অনেক জায়গায় ফুটপাথ ছাড়িয়ে সড়কের অর্ধেকটা জুড়েও পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে হাঁটার জায়গা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করছেন। এতে যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ বেড়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, শহীদ ডা: জিকরুল হক সড়ক, শহীদ সামসুল হক সড়ক, শেরে বাংলা সড়ক, শহীদ জহুরুল হক সড়ক, শহীদ তুলশীরাম সড়ক ও রংপুর রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ফুটপাথ সবটুকুই দোকানিদের দখলে চলে গেছে। এমনকি তারা দোকানের মালামাল ফুটপাথ পেরিয়ে সড়কেও প্রদর্শনীর জন্য রেখে দিয়েছেন। এতে রিকশা, মোটরসাইকেল ও পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর এবং সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম থাকে। প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকায় ক্রেতাদের চাপ সব সময়ই বেশি এসব সড়কে। কিন্তু সংকীর্ণ সড়ক ও অবৈধ দখলের কারণে কেনাকাটা করতেও দুর্ভোগে পড়তে হয় ক্রেতাদের।
এর প্রভাব পড়ছে মার্কেটের ভেতরের ব্যবসায়ীদের ওপরও। সৈয়দপুর কাপড় মার্কেট, পুরাতন কাপড় মার্কেট, চুড়িপট্টি, কসমেটিকস মার্কেট, মাছ ও গোশতের বাজারে ক্রেতা কমে গেছে। অনেকেই ভিড় ও যানজট এড়িয়ে পাশের সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটে চলে যাচ্ছেন।
শহীদ ডা: জিকরুল হক সড়কের ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, দেখে মনে হয় দোকানগুলো শুধু গুদাম, আর রাস্তা-ফুটপাথই যেন আসল বিক্রয়কেন্দ্র বা দোকান। প্রশাসনের সামনেই বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা এক-দুই দিনের বেশি টেকে না।
সৈয়দপুর কাপড় মার্কেটের ব্যবসায়ী আরমান হোসেন বলেন, শহীদ সামসুল হক সড়ক এখন পুরোপুরি বাজারে পরিণত হয়েছে। পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন। এতে আমাদের মার্কেটের দোকানগুলোতে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। অনেকবার অভিযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।
সৈয়দপুর বস্ত্র মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ফুটপাথ ও রাস্তা থেকে মালামাল সরাতে বলা হয়েছে। এরপরও কেউ না শুনলে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। মালামাল জব্দ ও জরিমানাও করা হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, শহরের সড়ক দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এবার ব্যবসায়ী নেতাদের শেষবারের মতো সময় দেয়া হয়েছে। সমাধান না হলে কঠোর উচ্ছেদ অভিযান ও জরিমানার ব্যবস্থা নেয়া হবে।