অবশেষে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি পেলেন ১১৮ কর্মকর্তা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে ১১৮ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই পদোন্নতি দেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত কর্মস্থল হতে কোনো কর্মকর্তার দফতর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দফতরের নাম/ঠিকানা উল্লেখ করে তিনি যোগদানপত্র দাখিল করবেন। পরে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে। অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বরাবর অথবা অনলাইনে দিতে পারবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের নিয়মিত ২০ ব্যাচের যুগ্মসচিব পদোন্নতি হয় ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর। যুগ্মসচিব হিসেবে দুই বছর সন্তোষজনক চাকরির পর তারা অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিযোগ্য হন। অথচ নিয়মিত পদোন্নতি পাওয়া এসব যুগ্মসচিবের পদোন্নতির চার বছর পর এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হলো।

পদোন্নতির জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে এক ডজনের বেশি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতগুলো সভার পরেও পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল।

গত ২২ জানুয়ারি ‘প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা উপেক্ষা’ অতিরিক্ত সচিবের ৪১৮ পদে কর্মরত মাত্র ২৮৫ জন’ শীর্ষক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই দিনই উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, অতিরিক্ত সচিবের স্বল্পতার কারণে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন অনুবিভাগে পদায়ন করা যাচ্ছে না। একজন অতিরিক্ত সচিব দুই বা ততোধিক অনুবিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক সংস্থা ও করপোরেশনে চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী ও মহাপরিচালক পদ শূন্য থাকার পরেও কর্মকর্তা স্বল্পতায় পদায়ন করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে গত ৬ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবকে ডেকে নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি অতিদ্রুত অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির নির্দেশনা দেন। এর পরেও অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকার বিগত সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের পিএস, প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক, মহাপরিচালক, ২০১৮ সালের রাতের ভোটে ডিসি হিসেবে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্নভাবে বিগত সরকারের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখিয়েছেন তাদের পদোন্নতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর দলীয় সরকারকে ম্যানেজ করে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অর্থের বিনিময়ে হাসিনা ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা যাবে- এমন ভাবনা থেকেই প্রভাবশালী একজন সাবেক আমলা অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি দিতে চান না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর জনপ্রশাসনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। অভ্যুত্থান পরবর্তী পদায়ন হওয়া কর্মকর্তাদের সাথে আগে থেকে জনপ্রশাসনে থাকা কর্মকর্তারাও সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়েন। সিন্ডিকেটটি সুবিধা করতে না পেরে বিভিন্ন অভিযোগ এনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমানকে সরিয়ে দেন। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় তারই ব্যাচমেট মো: এহছানুল হককে। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় সিন্ডিকেটটি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তারই একজন ঘনিষ্ঠ ব্যাচমেটের মন্ত্রণালয়ের যাতায়াত বেড়ে যায়। তার ওই ব্যাচমেট আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার সম্ভব্য দলটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। ওই ব্যাচমেটের পক্ষ থেকে নির্বাচনের পর তাকে আবার দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হবে এমন প্রলোভন দেখানো হয়। ফলে ওই কর্মকর্তার বাইরে কোনো কাজ করছেন না তিনি। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনাও উপেক্ষা করা হচ্ছে।