বন্ধুত্বের মায়াজাল ছিঁড়ে সত্যের মুখোমুখি জারা নূর
Printed Edition
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদনের চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সম্পর্কের জটিল সমীকরণ নিয়ে এবার মুখ খুললেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জারা নূর আব্বাস। আহমেদ আলী বাটের পডকাস্ট এক্সকিউজ মিতে হাজির হয়ে তিনি যেন এক ঝটকায় সরিয়ে দিলেন গ্ল্যামার জগতের সব পর্দা। দীর্ঘদিন ধরে সজল আলির সঙ্গে তার বন্ধুত্বের ফাটল নিয়ে যে গুঞ্জন ডালপালা মেলেছিল, জারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে আনফলো করা মানেই বাস্তব জীবনের সম্পর্কের ইতি নয়। তার মতে, জীবনের ভিন্ন পর্যায়ে মানুষের অগ্রাধিকার বদলে যায়, আর সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে ডিজিটাল জগতেও। কিন্তু মানুষের স্বভাব হলো যে বেশি কথা বলে তাকেই অপরাধী সাজিয়ে দেয়া, যা জারার ক্ষেত্রেও বারবার ঘটেছে।
বিনোদন জগতের বন্ধুত্ব নিয়ে জারার পর্যবেক্ষণ ছিল বেশ তীক্ষè ও বাস্তবসম্মত। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, এই পেশায় সবার সাথে হাত মেলানো মানেই তারা বন্ধু নয়; বরং হাত মেলানোর পর খেয়াল রাখতে হয় অপরজন আপনার সবটুকু কেড়ে নিয়ে গেল কি-না। এমনকি নারী সহকর্মীদের চেয়ে পুরুষ সহকর্মীদের সাথেই বন্ধুত্ব করা তার কাছে বেশি সহজ মনে হয়েছে, কারণ একই পেশার নারীদের মধ্যে প্রায়শই প্রতিযোগিতার কারণে সম্পর্কের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যায়। অতীতের ব্যর্থ বন্ধুত্বের ক্ষত তাকে এতটাই ভাবিয়ে তুলেছে যে, বর্তমানে তিনি নতুন করে কাউকে বন্ধু ডাকতে ভয় পান।
পুরো আলাপে জারা তার ক্যারিয়ারের এক বিশেষ মোড়ের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে সহকর্মী যুমনা জাইদি তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন তিনি কেন কাজকে সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না। সেই সময় কথাটি কঠোর মনে হলেও পরবর্তীতে জারা বুঝতে পারেন যে যুমনার সেই অকপট সত্যই ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। নিজের অভিনীত ‘জেবাইশ’ ড্রামাটি নিয়ে আত্মোপলব্ধি করতে গিয়ে তিনি স্বীকার করেন, স্ক্রিপ্ট না পড়ে কাজ করা ছিল তার জীবনের বড় ভুল। যুমনার সেই নিঃস্বার্থ সমালোচনা তাকে নিজের খামতিগুলো চিনতে শিখিয়েছে। শেষমেশ জারা নূর আব্বাস এটিই বুঝিয়ে দিলেন, গ্ল্যামার দুনিয়ার ফাঁপা প্রশংসার চেয়ে এক চিলতে কঠিন সত্যই একজন শিল্পীর বড় অবলম্বন।