খেজুরের রসে চুমুক এখন অনেকটাই কল্পনা
Printed Edition
মো: আব্দুল আজিজ, জয়দেবপুর (গাজীপুর)
গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর ও পিরুজালীতে অগ্রহায়ণ শেষে অতীতে খেজুরের রস সংগ্রহে গাছিদের মাঝে দেখা যেত কর্মচঞ্চলতা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে, ফলে আগের মতো নেই গাছিদের কর্মব্যস্ততা। পৌষের কুয়াশা ভেজা সকালে এক গ্লাস কাঁচা রসে চুমুক যেন এখন অনেকটাই কল্পনা।
আবহমানকাল থেকেই গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে একটা সময় শীত আসলেই খেজুরের কাঁচা রস, রসের নাশতা ও খেজুরের গুড় চোখে পড়লেও কালের পরিক্রমায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গাছের মৃত্যু, ইট ভাটায় ব্যবহার ও নতুন করে রোপণ না করায় বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ, ফলে বাঙালি ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী এই রসালো খাবারটি হারাতে বসেছে। প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খেজুরের রসকে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংক বলা হয়, এতে রয়েছে গ্লুকোজ, গুড়ে রয়েছে প্রোটিন, ফ্যাট ও মিনারেল ও প্রচুর আয়রণ। যা শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে।
খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে নিয়োজিত গাছিরা জানান, বছরের অন্যান্য সময় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও শীত আসলেই খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে সময় কাটে আমাদের। এখন গাছের স্বল্পতায় আগের মতো রস হয় না, তাই আমাদের অনেকেই এই কাজ ছেড়ে দিয়েছে। আমরা যারা আছি তারা অনেকেই কাঁচা রসের চাহিদা থাকায় বিক্রি করে দেই, কেউ কেউ রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করেন।
শীতের আগমনে গাছিরা কোমরে রশি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে সুনিপুণ হাতে মাথার কিছু নিচে একটি অংশ চেঁছে রস সংগ্রহ করেন।
মির্জাপুর ইউনিয়নের ডগরী গ্রামের বসিন্দা হুমায়ুন আহমেদ জানান, শীত আসলে রসের চাহিদা অনুযায়ী রস না থাকায় প্রতি লিটার ৭০ থেকে ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। যা দিন দিন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিশিষ্টজনরা জানান, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই রসালো খাবারটিকে আগামীর প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখতে দেশীয় প্রজাতির খেজুর গাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় দেশের সব নাগরিককে খেজুর গাছ লাগানোতে উৎসাহী হতে হবে।