প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামছড়ি খালে চলছে বালু উত্তোলন
হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি
Printed Edition
মোছাদ্দেক হোসাইন লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জামছড়ি খাল এখন খণ্ড খণ্ড পুকুরে পরিণত হয়েছে। বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে এখন ক্ষত-বিক্ষত এই খাল। প্রশাসনের একাধিক অভিযান চালানোর পরও ফের শুরু হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন কর্মকাণ্ড, যা স্থানীয় পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনজীবনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।
পার্বত্য বান্দরবান থেকে উৎপত্তি হয়ে লোহাগাড়ার চরম্বা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে পদুয়া ইউনিয়নের তেওয়ারিখিল এলাকায় গিয়ে টঙ্কাবতী নদীতে পড়েছে এই জামছড়ি খাল। এলাকার চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খালে গত এক বছর ধরে চলছে বেপরোয়া বালু উত্তোলন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, উলুবনিয়া এলাকায় খুবই কাছাকাছি (মাত্র ৯০০ ফুটের মধ্যে) দু’টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে বালু উত্তোলনের যন্ত্র। সেখানে থাকা দিনমজুররা জানান, প্রতি মিনি ট্রাক উত্তোলিত বালু এক হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১০ বছর ধরে জামছড়ি খালে সীমিত পরিসরে বালু উত্তোলন হলেও গত বছর পূর্ব মাইজবিলার উলুবনিয়া এলাকার চারটি পয়েন্টে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসন গত এক বছরে ওই এলাকায় অন্তত তিনটি অভিযান চালায়। প্রশাসনের অভিযানে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও এক সপ্তাহ আগে থেকে আগের দু’টি পয়েন্টে আবারো বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এবার কৌশল পাল্টানো হয়েছে- বালুর স্তূপ না করে তোলার সাথে সাথেই তা পরিবহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে সর্বশেষ অভিযানে বালু উত্তোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শওকত ওসমানের নামে লোহাগাড়া থানায় মামলা করে প্রশাসন। বর্তমানে চলমান বালু উত্তোলনের একটি পয়েন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শওকত ওসমান নিজে এবং অন্যটি তার চাচাতো ভাই মো: আব্দুল্লাহ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শওকত ওসমান ও মো: আব্দুল্লাহ দু’জনই বালু উত্তোলনে নিজেদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘কোথায় বালু উত্তোলন হচ্ছে, জায়গাটি আমরা চিনিও না।’
বেপরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে খালের একাধিক জায়গায় গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। খালের পাড় ভেঙে বালু তোলায় আগামী বর্ষাকালে পাড় ধসে অনেক কৃষিজমি খালে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জামছড়ি খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত পূর্ব মাইজবিলা সংরক্ষিত বন এলাকা। অপর পাড় ধসে এই বন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশ বেহাল হয়ে পড়েছে। বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির কারণে ওই সড়কে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই জায়গায় বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধও হয়েছিল। নতুন করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা নেই। আমরা বিষয়টি দেখছি। দ্রুত অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’