থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সঙ্ঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০
Printed Edition
আনাদোলু
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে সোমবার অসংখ্য স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সঙ্ঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।
কম্বোডিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তের লড়াইয়ের জেরে ছয়টি প্রদেশের এক হাজার ৩৯টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রেশ নিউজের তথ্য মতে, এতে ৯ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষক এবং দুই লাখ ৪২ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে আরো দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে, আর আহত হয়েছেন ৭৩ জন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এজেন্সি কাম্পুচিয়া প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, থাই এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে।
অন্য দিকে থাই এনকোয়ারারের খবর অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিকর্নেদজ বালাঙ্কুরা জানিয়েছেন, ব্যাংকক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরে (ওএইচসিএইচআর) আবেদন জানিয়েছে। থাইল্যান্ডে ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৬০০টিরও বেশি স্কুল ও হাসপাতাল বন্ধ রাখা হয়েছে। থাই বিমানবাহিনী কম্বোডিয়ার সামরিক অবস্থানে এফ-১৬ হামলা চালানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে এবং সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
সঙ্ঘাত বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষের হতাহতের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং সহানুভূতি প্রকাশ করছি। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড প্রতিবেশী এবং ভবিষ্যতেও তা-ই থাকবে। একটি দেশের জন্য বন্ধুত্ব ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক অমূল্য। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো লড়াই থামানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়া।’
তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করি উভয় পক্ষ সীমান্ত এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করবে। একই সাথে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং পরিস্থিতি দ্রুত প্রশমিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে লড়াই তীব্র হওয়ার পর থেকে সীমান্তের উভয় পাশে প্রায় ৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে কম্বোডিয়ায় ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক এবং থাইল্যান্ডে ১৬ জন সেনা ও ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতারা নতুন করে শুরু হওয়া লড়াই থামাতে সম্মত হয়েছেন।